ট্রাম্পের ডান হাত-ই বেহাত? তাহলে কি ভারতের জন্যই বন্ধুত্ব ভাঙছে মাস্ক-ট্রাম্পের?

ভারতে অবশেষে পা রাখতে চলেছে টেসলা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে দেশে পাওয়া যেতে পারে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রিক গাড়ি। এই খবরে ভারতীয়দের মধ্যে যেমন উচ্ছ্বাস, তেমনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ভারতে টেসলার কারখানা খুললে আমেরিকার সঙ্গে অন্যায় হবে।” এই মন্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্কের মধ্যে সম্পর্কে ফাটলের আভাস মিলছে।
ইলন মাস্ক ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী। নির্বাচনের সময় থেকেই তাঁকে পাশে পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতায় এসেই মাস্ককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এবার ভারতের প্রশ্নে দুই বন্ধুর মধ্যে মতের অমিল স্পষ্ট। ট্রাম্প যখন ভারতের উপর ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা সমান শুল্ক আরোপের কথা বলছেন, তখন মাস্ক ভারতে টেসলার কারখানা ও শোরুম স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এতেই ট্রাম্পের মেজাজ বিগড়েছে। একটি টেলিভিশন শো-তে তিনি বলেন, “ওখানে গিয়ে কারখানা বানালে আমাদের দেশের সঙ্গে অন্যায় হবে। এটা খুবই অন্যায্য।”
সূত্রের খবর, এপ্রিল থেকেই ভারতে টেসলার গাড়ি পাওয়া যাবে। এর দাম হতে পারে প্রায় ২১ লক্ষ টাকা। প্রথম ধাপে দিল্লি ও মুম্বইয়ে শোরুম খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর মহারাষ্ট্র বা গুজরাটে কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। টেসলার এই পরিকল্পনা ভারতের ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
এর আগে ইলন মাস্ক ভারতে ইলেকট্রিক গাড়ির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তবে গত বছর মার্চে ভারত সরকার নতুন ইভি নীতি ঘোষণা করে। এর ফলে শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়, যদি কোনো কোম্পানি ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে এবং দেশে উৎপাদন শুরু করে। এই নীতির সুযোগ নিয়েই টেসলা ভারতে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে।
ট্রাম্পের আপত্তি সত্ত্বেও মাস্কের এই পরিকল্পনা এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি টেসলা ভারতে কর্মী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করেছে। এই ঘটনা শুধু ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, ট্রাম্প-মাস্কের বন্ধুত্বের গতিপথেও নতুন মোড় আনতে পারে। ভারতীয় বাজারে টেসলার আগমন কীভাবে প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।