মমতার ‘মৃত্যু-কুম্ভ’ মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন যোগী আদিত্যনাথ, সমর্থন করলেন অখিলেশ

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেন। মহাকুম্ভে পদদলিত হয়ে ৩০ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতা মন্তব্য করেছিলেন, যা যোগী “ভিত্তিহীন অভিযোগ” বলে দাবি করেছেন। বুধবার উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই মন্তব্য কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের ওপর আঘাত হেনেছে।”

মহাকুম্ভ নিয়ে বিতর্ক কেন?
গত ২৯ জানুয়ারি মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে মহাকুম্ভে সঙ্গম স্থলে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ৩০ জন প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ আহত হন। এই ঘটনার পর বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন যে, উত্তরপ্রদেশ সরকার তথ্য গোপন করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুর্ঘটনাকে “মৃত্যু কুম্ভ” বলে অভিহিত করেন এবং যোগী সরকারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনেন।

মমতা বলেন, “আমি মহাকুম্ভকে সম্মান করি, গঙ্গা মাকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু পর্যাপ্ত ব্যবস্থার অভাব ছিল। কত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে? দরিদ্র তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবা হয়নি।”

যোগীর পাল্টা আক্রমণ
যোগী আদিত্যনাথ মমতার বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন,
“মহাকুম্ভ কোনও রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান নয়, এটি আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। ৫৬ কোটিরও বেশি মানুষ এখানে স্নান করেছেন। অথচ এই পবিত্র আয়োজনকে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করবে, তবে এটিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় বানানোর কোনও প্রয়োজন নেই।”

অখিলেশ যাদব মমতার পাশে
মুখ্যমন্ত্রী যোগীর সমালোচনার মধ্যেই মমতার মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, “তিনি যা বলেছেন তা ঠিক। বাংলার বহু মানুষও মহাকুম্ভে গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু সরকার কোনও এফআইআর দায়ের করেনি। তাহলে সমস্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কার?”

তিনি আরও বলেন, “ভক্তরা ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েছিলেন। এটি কি ‘বিকশিত ভারত’? যেখানে সরকার যানজটও সামলাতে পারে না?”

নতুন রাজনৈতিক সংঘাত
এই ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা যেখানে সরকারের অব্যবস্থাপনাকে কাঠগড়ায় তুলছে, সরকার সেখানে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করছে।

এই বিতর্ক আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মহাকুম্ভ বিতর্ক রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব বিস্তার করে এবং আগামী নির্বাচনের ময়দানে কীভাবে ব্যবহৃত হয়।