রিক্সা চালিয়ে বিধানসভা যাত্রা মনোরঞ্জন ব্যাপারীর, ফেসবুক পোস্টে খোঁচা!

তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারি আবারও সংবাদ শিরোনামে। তাঁর বিধানসভা যাত্রা একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকে, এক রিকশা চালক হিসেবে প্যাডেল মেরে বিধানসভা পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। শহরের রাস্তায় সেই ছবি এখন সবার নজরে। বলাগড়ের এই বিধায়ক একসময় ‘খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি’ হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছেন, এবং এবার সেই পরিচয় আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করলেন তিনি।
আজ, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে, কিড স্ট্রিটের বিধায়ক আবাস থেকে প্যাডেল চালিয়ে তিনি রওনা দেন বিধানসভায়। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর এই প্রতিশ্রুতি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। মনোরঞ্জন ব্যাপারী নিজেই জানিয়েছেন, “মাটির কাছাকাছি থাকতে হবে। মানুষের কথা শুনতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে—এটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষা।” তাঁর এই যাত্রা সেই কথারই বাস্তব উদাহরণ।
তবে, রিকশায় করে বিধানসভা যাত্রার সিদ্ধান্তটা কেন? এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করার পর বলাগড় থেকে উঠেছিল ‘রিকশা যাবে বিধানসভায়’ স্লোগান। সেই চাওয়াকেই বাস্তবায়িত করতে চেয়েছেন মনোরঞ্জন। তিনি ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, “এক রিকশাচালক সম্মানীয় বিধানসভার সদস্য হিসেবে বিধানসভায় এসেছেন। কিন্তু সরাসরি রিকশা বিধানসভায় আসেনি। কারণ, কলকাতা শহরে প্যাডেল রিকশা চলে না।”
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে কলকাতায় গাড়ির সংখ্যা বেশি এবং যানজটের সমস্যা রয়েছে, তবে তিনি এসব বাধা মানেননি। তাঁর মতে, “এটাই তো প্রকৃত জীবন। আমি খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি।” শহরের রাস্তায় রিকশা চালানোই তাঁর প্রকৃত সত্ত্বা, যা আজ সবাই দেখতে পেল।
মনোরঞ্জন ব্যাপারী, যিনি ‘দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমির’ প্রতিষ্ঠাতা, খুব সহজেই রাজনীতির বাইরে সাধারণ জীবনযাপন করেন। রাজনীতির মেকি গাম্ভীর্য থেকে দূরে তিনি গত কয়েক বছর ধরে নিজের পরিচিতির সঙ্গেই সামনে এসেছেন। জেলায় টোটো চালিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যে নিজেদের পরিচয়ে গর্বিত, তা আজ স্পষ্ট হয়ে উঠল।
এখন দেখা যাবে, এই ‘রিকশা চালিয়ে বিধানসভায় যাত্রা’ মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে কতটা নতুন সমর্থন এনে দেয় এবং দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর অবস্থানকে কীভাবে প্রভাবিত করে।