‘উরস’ উৎসবে নেই বাংলাদেশি পুণ্যার্থীদেড় উপস্থিতি, ক্ষতি কোটি কোটি টাকার কেনা-বেচাতে

বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতির কারণে এবার মেদিনীপুরের বিখ্যাত উরস উৎসবে বাংলাদেশ থেকে তীর্থযাত্রীরা আসতে পারেননি। এর ফলে, মেলা ও বিকিকিনিতে ব্যাপক ভাটা পড়তে চলেছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক দিক থেকে বিরাট ক্ষতি ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ব্যবসায়ীদের মতে, এই ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মেদিনীপুর শহরের জোড়া মসজিদ এলাকায় প্রতি বছরের মতো এই উৎসব পালিত হচ্ছে। উৎসব শুরু হয়েছে আজ, সোমবার থেকে, কিন্তু মেলা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগে। প্রতিবছর, এই সময় বাংলাদেশ থেকে বিশেষ ট্রেনে প্রায় ২ হাজার পুণ্যার্থী মেদিনীপুরে আসতেন। বিমানে এবং স্থলবন্দর দিয়েও বাংলাদেশের বহু মানুষ আসতেন। উৎসব কমিটির দাবি, পুরো মেলায় বাংলাদেশ থেকে আসা পুণ্যার্থীর সংখ্যা ছিল চার হাজারেরও বেশি।
বাংলাদেশি পুণ্যার্থীরা মূলত এখানকার মিষ্টি ও মশলা–সহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করতেন। স্থানীয় মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা জানান, উরস উৎসবে প্রতি বছর প্রায় দেড় হাজার কুইন্টাল ক্ষীরের গজা বিক্রি হতো, যার একটি বড় অংশ ক্রেতা ছিলেন বাংলাদেশি। এছাড়া, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির পাশাপাশি জিরে, অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্র, বোরোলিন, মশলা এবং মাদুরও ক্রয় করতেন তাঁরা। কিন্তু এ বছর বাংলাদেশি তীর্থযাত্রীদের অনুপস্থিতির কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্স-এর সভাপতি চন্দন রায় বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ট্রেন বা পুণ্যার্থী না আসায় আমাদের শহরের ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একেক বছর উরস উৎসবের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার বেচাকেনা হত। এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়।”
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুকুমার দে আরও জানান, “উরস উৎসবে ক্ষীরের গজা বিক্রি হতো প্রায় দেড় হাজার কুইন্টাল, যার বেশিরভাগ ক্রেতা ছিল বাংলাদেশি। তাদের অনুপস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ টাকার বেচাকেনা হয়নি। এটি আমাদের বড় ক্ষতি।”
এছাড়া, বিহার থেকে মিষ্টির দোকান নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, “এবার লোকজন কম থাকায় বেচাকেনা একেবারে নেই। অন্যান্য বছর পাঁচ-ছ’দিনের মধ্যে আমরা লক্ষাধিক টাকার বেচাকেনা করতাম, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি অনেক খারাপ।”
হোটেল মালিক, টোটো চালকরা সবাই একমত যে, এবারের উৎসবে তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশি পর্যটকরা আসলে সব হোটেল পূর্ণ হয়ে যেত, এমনকি স্থানীয় বাড়িঘরও ভাড়া দেওয়া হতো। কিন্তু এবার তারা এসেছেন না। টোটো চালক শেখ সাজু বলেন, “আগে একেক জন টোটো চালক প্রতিদিন দেড় থেকে দু’হাজার টাকা রোজগার করতেন, কিন্তু এবার সেই সম্ভাবনা নেই।”
উৎসব কমিটির আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ট্রেন বা তীর্থযাত্রী আসেনি, তবে উরস উৎসব চলছে। আমরা আশা করি, উৎসব সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং পরিস্থিতি সামলে নেওয়া যাবে।”