“এখনো মেলেনি কাটা মুণ্ডু”- দত্তপুকুর কাণ্ডে জম্মু-কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার হলেন মূল অভিযুক্ত

দত্তপুকুরে মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পলাতক অভিযুক্ত জলিল মণ্ডল অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। জম্মু থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে বারাসত থানার পুলিশ। গত ৩ ফেব্রুয়ারি দত্তপুকুরের বাজিতপুরে একটি কৃষি জমির পাশে মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের পর থেকেই পলাতক ছিল জলিল। নিহত যুবক গাইঘাটার হজরত লস্কর। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয় জলিল। যদিও এখনও পর্যন্ত হজরতের মুণ্ড উদ্ধার করা যায়নি।

গ্রেপ্তারের বিস্তারিত
সূত্রের খবর, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে জলিলের খোঁজ মেলে। ঘটনার পর জলিল কলকাতা স্টেশন থেকে জম্মু তাওয়াই ট্রেনে চড়ে পালিয়েছিল। জম্মুতে সে পরিচয় গোপন করে ভাঙা জিনিসপত্র বিক্রির কাজ করছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বারাসত থানার পুলিশ জম্মুতে অভিযান চালায় এবং সেখান থেকে জলিলকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার জম্মুর স্থানীয় আদালতে তাকে তোলা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে বারাসতে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার পটভূমি
গত ৩ ফেব্রুয়ারি, দত্তপুকুর থানার বাজিতপুরে একটি কৃষি জমির পাশে মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার হয়। দেহের হাত-পা গেঞ্জি দিয়ে বাঁধা ছিল, শরীরের একাংশ পোড়া এবং নিম্নাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় খালে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালানো হলেও হজরতের মুণ্ড উদ্ধার করা যায়নি। পরে দেহের হাতে থাকা উল্কির সূত্র ধরে নিহতের পরিচয় মেলে। তিনি গাইঘাটার বাসিন্দা হজরত লস্কর।

তদন্তের অগ্রগতি
এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, খুনের পিছনে ত্রিকোণ প্রেম এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকতে পারে। ইতিমধ্যে, জলিলের খুড়তুতো ভাই ওবাইদুল এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও, অভিযুক্তদের আশ্রয়দাতা এক মহিলাকেও আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, সম্পর্কের জটিলতা এবং আর্থিক বিরোধ এই খুনের পিছনে মূল কারণ হতে পারে।

জলিলের জেরা এবং মুণ্ডের সন্ধান
পুলিশের ধারণা, জলিলকে জেরা করলে খুনের পিছনের গোটা চিত্র স্পষ্ট হবে। একইসঙ্গে, দেহের মুণ্ড উদ্ধারের সম্ভাবনাও বাড়বে। জলিলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে এই রহস্যময় মামলার অনেক অজানা দিক উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেষ কথা
দত্তপুকুরের মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত জলিলের গ্রেপ্তার তদন্তে নতুন মোড় এনেছে। পুলিশের আশা, জলিলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এই মামলার সমাধানে সাহায্য করবে। তবে, হজরত লস্করের মুণ্ড উদ্ধার এবং খুনের সঠিক কারণ এখনও রহস্যেই রয়ে গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং পুলিশের তদন্তের উপর চোখ রাখছে সবাই।