রাজ্য়ে ফের ডাক্তারি পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু, উদ্ধার হলো ঝুলন্ত দেহ

রাজ্যের মেডিকেল কলেজে আবারও এক ডাক্তারি পড়ুয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এলো। কোচবিহারের এন জে এন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NJN Medical College and Hospital) এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম কিশান কুমার। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।

ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে মেডিক্যাল কলেজের ৩০৪ নম্বর রুমে কিশান কুমারের সহপাঠীরা তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশানের পরিবারের সদস্যরা বিহার থেকে আসার পর মৃতদেহ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

আত্মহত্যা না অন্য কিছু? তদন্তে পুলিশ
সূত্রের খবর, কিশানের ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। ফলে মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রেমঘটিত টানাপোড়েনের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কিশানের সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যাতে তার মৃত্যুর পেছনে কোনও বিশেষ কারণ জানা যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, সহপাঠীদের কাছ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
কোচবিহার এন জে এন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ নির্মল কুমার মণ্ডল জানান, “রাত বারোটার পর ইন্টার্ন হস্টেল থেকে ফোন আসে। জানানো হয়, এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যেই কিশানের বাবাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে।”

সম্প্রতি আরও এক মেডিক্যাল ছাত্রীর মৃত্যু
এই ঘটনা রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে বাড়তে থাকা রহস্যমৃত্যুর তালিকায় নতুন সংযোজন। কয়েকদিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটিতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী আইভি প্রসাদের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। বয়স মাত্র ২০ বছর। কামারহাটির ইএসআই কোয়ার্টারে নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে।

রাতে তিনি একাই ছিলেন। তার বাবা বিদ্যাসাগর প্রসাদ মুম্বাইয়ের একটি ব্যাংকে কর্মরত, আর মা সুমিত্রা প্রসাদ কামারহাটির ইএসআই হাসপাতালের চিকিৎসক। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার অনুমান করলেও, ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসক মহলে উদ্বেগ
রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে একের পর এক ছাত্র-ছাত্রীদের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানসিক চাপ, পড়াশোনার চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন— এসবই কি কারণে পরিণত হচ্ছে? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কিছু?

পুলিশ ও মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে বিষয়টি নিয়ে বিশদ তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে একের পর এক এমন ঘটনায় মেডিক্যাল ছাত্রদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।