দুই বন্ধুর দেখা হবে আজ, ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর বিশেষ বৈঠক, জেনেনিন কী নিয়ে আলোচনা?

ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছেন মোদী। ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা এবং জর্ডনের রাজা আবদুল্লা ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এই বৈঠক দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রভাব, গাজা দখল নিয়ে বিতর্কিত পরিকল্পনা এবং আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হবে। ভারত বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির কারণে, কারণ ইতিমধ্যেই ভারত থেকে আমদানিকৃত কিছু পণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এর আগেও নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন। ২০১৯ সালে হাউস্টনে মোদীর ‘হাউডি মোদী’ অনুষ্ঠান এবং ২০২০ সালে আহমেদাবাদে ট্রাম্পের ভারত সফর সেই সুসম্পর্কের প্রতিফলন। এবার বৈঠকে অভিবাসন নীতিও আলোচনার মূল বিষয় হতে পারে, বিশেষ করে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে। ইতিমধ্যেই ১০৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, এবং শীঘ্রই আরও ৮০০ জনকে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মোদী আশা করছেন, বৈধ অভিবাসীদের জন্য ভবিষ্যতে আরও সহজ নীতি গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে এই বৈঠকে। চিনের প্রসঙ্গও আলোচনায় আসতে পারে, কারণ দুই দেশই চিনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তা চিনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার জন্য পরিচিত। তাই ভারত ও আমেরিকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে। বিশেষ করে শুল্ক নীতি, অভিবাসন সমস্যা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।