লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাড়বে? বিধানসভায় ২৬ এর ভোটের আগে আজ হবে শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বুধবার বিকেল ৪টায় রাজ্য বিধানসভায় এই বাজেট পেশ করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এবারের বাজেটে একগুচ্ছ চমকপ্রদ ঘোষণা আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। বিশেষ করে, জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর অর্থ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও, সরকারি কর্মীদের ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি এবং আম আদমির জন্য বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কী থাকতে পারে বাজেটে?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বাজেটকে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার। নির্বাচনী বছরের আগে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে এবারের বাজেটে বেশ কিছু জনমুখী প্রকল্প ও আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করা হতে পারে। বিশেষ করে, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যা মমতা সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় উদ্যোগ।

এছাড়াও, সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স) বা মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে আয়করে বড় ছাড় দেওয়ার পর রাজ্য বাজেটেও সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে। রাজ্যবাসীর জন্য নতুন কোনো প্রকল্প বা চমকপ্রদ ঘোষণা আসতে পারে কি না, তা নিয়ে সকলের নজর থাকবে।

মমতার ‘একলা লড়াই’ বার্তা
বাজেট অধিবেশনের আগে সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে তিনি ‘একলা লড়াই’-এর বার্তা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, মমতা বলেছেন, “দিল্লিতে আপকে সাহায্য করেনি কংগ্রেস। হরিয়ানায় কংগ্রেসকে সাহায্য করেনি আপ। তাই দুই রাজ্যে বিজেপি জিতে গিয়েছে। সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। কিন্তু বাংলায় কংগ্রেসের কিছুই নেই। আমরা একাই লড়ব। আমরা একাই যথেষ্ট।”

মমতার এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস একাই লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রভাব
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে, যেখানে আয়করে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই বাজেটকে ‘মধ্যবিত্তবান্ধব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাজ্য বাজেটে কেন্দ্রীয় বাজেটের মতো বড় কোনো চমক থাকবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্য সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় বাজেটের মতো বড় আর্থিক ছাড় দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে, তবে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদন
বুধবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপরই বিকেলে বিধানসভায় বাজেট পেশ করা হবে। রাজ্যবাসীর আশা, এই বাজেটে তাদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বড় কিছু ঘোষণা করা হবে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই বাজেট কতটা কার্যকরী এবং জনপ্রিয় হয়, তা সময়ই বলবে। তবে এটা নিশ্চিত যে, রাজ্য সরকার চাইবে এই বাজেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে।