“নিমিষেই উড়ে যেতে পারে গোটা গ্রাম”- বীরভূমে ১৬ হাজার কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করলো পুলিশ

বীরভূম জেলায় আবারও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এত পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে যে তা দিয়ে একটি গোটা গ্রাম উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একটি ১৬ চাকার ট্রাক আটক করে। ট্রাকটি তল্লাশি করার সময় পুলিশের চোখ কপালে ওঠে। ট্রাকের ভিতরে থরে থরে সাজানো ছিল বস্তা। বস্তাগুলি খুলতেই পাওয়া যায় বিপজ্জনক বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। মোট ৩২০টি বস্তায় ১৬ হাজার কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি বস্তার ওজন ছিল ৫০ কেজি।
তল্লাশির সময় পুলিশ লক্ষ্য করে যে বস্তাগুলির ব্যাচ নম্বর ম্যানুয়ালি মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও, ট্যাক্স ইনভয়েস, চালান এবং গন্তব্যস্থলের রুটে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বিস্ফোরকগুলি অবৈধভাবে পরিবহন করা হচ্ছিল। পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত।
আগের ঘটনার প্রতিধ্বনি
এই ঘটনা বীরভূমে বিস্ফোরক উদ্ধারের প্রথম ঘটনা নয়। গত ৭ জানুয়ারি, বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে রামপুরহাটের জঙ্গলে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল। জঙ্গলের ভিতরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে ৯ হাজার ডিটোনেটর মজুত ছিল। এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীরা ঘরের ভিতরে থরে থরে সাজানো পেটি খুঁজে পান, যার ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ ডিটোনেটর উদ্ধার করা হয়।
সেই সময়ও প্রশ্ন উঠেছিল, বাংলায় কি কোনো নাশকতার পরিকল্পনা চলছে? এবারও একই প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে। পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এই বিষয়ে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।
প্রশ্নের জাল
এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোথা থেকে আসলো এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে এখনও রহস্য রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বিস্ফোরকগুলি অবৈধ খনির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। আবার, কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্যও এটি ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বীরভূমের জঙ্গল এবং প্রত্যন্ত এলাকাগুলি ক্রমেই অবৈধ কর্মকাণ্ডের আখড়া হয়ে উঠছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। পুলিশ এবং প্রশাসনের উপর চাপ বেড়েছে এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত
গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বিস্ফোরকগুলি ঝাড়খণ্ড বা অন্য কোনো রাজ্য থেকে আনা হতে পারে। তবে, এই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যায়নি।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা প্রশাসনের কাছ থেকে কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে তারা আরও কঠোর নজরদারি চালাবে।