“প্রেগন্যান্সি কিটের সূত্র ধরেই কুকীর্তি ফাঁস”- টোটো চালকের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ

স্কুল ফেরত নাবালিকার ব্যাগে প্রেগন্যান্সি কিট দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রকাশ্যে আসে এক ভয়াবহ ঘটনা। অভিযোগ, এক টোটো চালক চকোলেটের মধ্যে মাদক মিশিয়ে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে। শনিবার জলপাইগুড়ি মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিশের দ্রুত অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্ত।

📍 কী ঘটেছিল?
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের এই ঘটনায় অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী টোটো চালক ওই নাবালিকার পরিচিত ছিল। সে মাঝে মধ্যেই তাকে স্কুলে পৌঁছে দিত। কিন্তু দু’সপ্তাহ আগে, একদিন স্কুল ফেরার পথে সে নাবালিকাকে তিস্তা বাঁধ এলাকায় পার্কে নিয়ে যায় এবং চকোলেট খাওয়ায়। অভিযোগ, চকোলেট খাওয়ার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে নাবালিকা। সেই সুযোগেই ঘটানো হয় নির্যাতন।

নাবালিকা পরে পরিবারের কাছে জানায়, ঘটনার কথা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল অভিযুক্ত। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সে প্রেগন্যান্সি কিট কিনে আনে, যা পরিবারের নজরে আসে। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদের সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে নাবালিকা এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেয়।

🚨 অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, তদন্ত শুরু
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জলপাইগুড়ি মহিলা থানার পুলিশ। রবিবার তাকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৌভনিক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন,
🛑 অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
🛑 নাবালিকার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে।
🛑 নির্যাতনের সময় চকোলেটে মাদক মেশানো হয়েছিল নাকি অন্য কিছু দেওয়া হয়েছিল, তা ফরেনসিক পরীক্ষায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

⚠️ নাবালিকার নিরাপত্তা ও সচেতনতার বার্তা
এই ঘটনা জলপাইগুড়ি জেলায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অপরিচিত বা কম পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে খাবার গ্রহণ না করার বিষয়ে শিশুদের শেখানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না দেখায়। 🔥🚔