টলিউডে পরিচালকদের কর্মবিরতি, টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে সংঘাত চরমে

টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে পরিচালকদের সংঘাতের জেরে ফের অচলাবস্থার মুখে টলিউড। পরিচালকদের অনুরোধেও সাড়া দেননি টেকনিশিয়ানরা। ফলে শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন পরিচালকরা। বৈঠকেও কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি।

পরিচালকদের দাবি

এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে পরিচালকদের তরফে সুদেষ্ণা রায় তাঁদের দাবি সনদ পড়ে শোনান। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

১. সমস্ত দাবির লিখিত উত্তর দিতে হবে। মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে পরিচালকদের আস্থা নেই।
২. জুলাই ২০২৪-এ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ যে কোনওভাবে কাজ বন্ধ করা যাবে না, তা উপেক্ষিত হয়েছে।
৩. ব্ল্যাকলিস্ট হওয়া তিন পরিচালককে তাঁদের প্রজেক্ট পুনরায় শুরু করতে লিখিত অনুমতি দিতে হবে।
৪. ভবিষ্যতে কাউকে লিখিত বা মৌখিকভাবে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে না, তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।
৫. কোনও অবস্থাতেই লিখিত বা মৌখিক নির্দেশে কোনও কাজ বন্ধ করা যাবে না।
৬. শুটিংয়ের আগে টেকনিশিয়ানদের তালিকা দেওয়া হবে, তবে ফেডারেশনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না।
৭. প্রযোজক ও পরিচালকরা নির্দ্বিধায় কাজ শুরু করতে পারবেন। তালিকা নিয়ে সমস্যা থাকলে আলোচনা করা হবে, তবে কাজ বন্ধ করা যাবে না।
৮. ব্যক্তিগত সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট গিল্ডের মাধ্যমে আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে।

পরিচালকদের অবস্থান

সাংবাদিক বৈঠকে পরিচালকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রযোজকদের থেকে তাঁরা যে বিনিয়োগ নিয়ে আসেন, তার নিশ্চয়তা কী? সিনিয়র পরিচালকদের কাজ বন্ধ হলে জুনিয়র পরিচালকদের ভবিষ্যৎ কী হবে? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশও মানা হচ্ছে না। তাই সংগঠনের পরিচালকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফ্লোর থেকে সরে যাওয়ার। যতক্ষণ না লিখিতভাবে নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে যে কাউকে মৌখিকভাবে ব্ল্যাকলিস্ট করা যাবে না, ততক্ষণ পরিচালকেরা কাজে ফিরবেন না।

ঘটনার সূত্রপাত

কয়েকদিন আগে ধারাবাহিকের পরিচালক সৃজিত রায় অভিযোগ করেন, তাঁর ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেট অর্ধেক তৈরি করে টেকনিশিয়ানরা কাজ ফেলে চলে যান। এমনকি সেটের কিছু অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে। এরপর পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের কাজও বাধার মুখে পড়ে। গতকালই পরিচালকেরা কর্মবিরতিতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা অবশেষে বাস্তবায়িত হলো।

এই পরিস্থিতিতে টলিউডের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।