পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করা হোক, সংসদে ফের সুর চড়াল তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার আর্জি জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে ‘বাংলা’ শব্দটি গভীরভাবে যুক্ত। তাই, রাজ্য সরকার মনে করে রাজ্যের নামের পরিবর্তন সময়ের দাবি। সম্প্রতি, রাজ্যসভার নতুন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে এই দাবি উত্থাপন করেছেন।
২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সর্বসম্মতিতে রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। তবে, কেন্দ্রের সম্মতি এখনও মেলেনি। এ প্রসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছিলেন।
রাজ্যসভার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের রাজ্যের নাম পরিবর্তন করার দাবি জানানো হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের আর অস্তিত্ব নেই। আমাদের রাজ্যের নাম পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলা শব্দটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এই নাম আমাদের গর্বের প্রতীক, এবং এর পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রসঙ্গত, অবিভক্ত বাংলা যখন স্বাধীনতার সময় ভেঙে দুই খণ্ডে বিভক্ত হয়, তখন ভারতের অংশের নাম হয় পশ্চিমবঙ্গ, আর পাকিস্তানে যে অংশ পড়ে, তার নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গঠিত হয়।
এখন, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ‘বাংলা’ নামটি কেবল একটি ভূখণ্ডের পরিচয় নয়, বরং এর মাধ্যমে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, এবং পরিচয়ের প্রতি সম্মান জানানো হবে।
যদিও রাজ্য সরকার এই প্রস্তাব দিয়েছে, রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে হলে রাষ্ট্রপতির সুপারিশে সংসদে একটি বিল আনতে হয়, এবং সেই বিলটি দুটি কক্ষে পাশ করাতে হয়। তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের আশা, এক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার রাজ্যের আর্জি মেনে নেবে এবং এই প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।
এই দাবির ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু মানুষ এর সমর্থনে সাড়া দিয়েছেন, আবার অন্যরা এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছেন। তবে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।