বিরল রোগে আক্রান্ত ছোট্ট অস্মিকা, সত্যি কি অরিজিৎ টাকা পাঠিয়েছেন? অবশেষে প্রকাশ্যে সত্যি

অস্মিকা দাস— একটি ছোট্ট নাম, কিন্তু এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক অসীম লড়াইয়ের গল্প। অস্মিকা, যে এখনো একটু একটু করে বড় হয়ে উঠছে, কিন্তু তার মা-বাবার বুকের মধ্যে প্রতিদিন চাপ বাড়ছে। গত ছয় মাসের মধ্যে অস্মিকার চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং সেই চিকিৎসা করতে হবে ১৬ কোটি টাকার এক বিশেষ ইঞ্জেকশন। এই ইঞ্জেকশনটি না পেলে, অস্মিকা কখনোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে না— হাঁটাচলা তো দূরের কথা, এমনকি বসতেও পারবে না।

অস্মিকার মা-বাবা, লক্ষ্মী সরকার দাস ও তার স্বামী, বর্তমানে দয়া এবং সহানুভূতির সাহায্যে প্রায় ৭ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে তাতেও এখনও অনেকটা কম। জনসাধারণের সাহায্য ছাড়া, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই তারা মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করছেন।

অস্মিকার শরীরে বাসা বেঁধেছে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (SMA) টাইপ ওয়ান— যা বিশ্বের অন্যতম জটিল এবং বিরল রোগ। প্রথম দিকে অস্মিকা যেমন সব বাচ্চাদের মতো ছিল, তবে ৩ মাস বয়সে হঠাৎ করেই তার পা তুলতে অক্ষম হয়ে যায়। এরপর মেয়ে আরো সুস্থ হতে সময় নিয়েছিল, কিন্তু তখনই তাদের বুঝতে সমস্যা হয়— অস্মিকার শরীর স্বাভাবিকভাবে উন্নতি করছে না। পরবর্তীতে একাধিক হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর তাঁরা জানতে পারেন, মেয়েটি এসএমএ রোগে আক্রান্ত।

অস্মিকার চিকিৎসা প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ইঞ্জেকশনটি আমদানি করা হয় বিদেশ থেকে, যার দাম প্রায় ৯ কোটি টাকা। তবে আমদানি খরচ এবং অন্যান্য খরচের সঙ্গে এই ইঞ্জেকশনটির মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকায় দাঁড়াচ্ছে।

অস্মিকার চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়াতে, জনপ্রিয় শিল্পী অরিজিৎ সিং-এর নাম উঠে এসেছিল। তবে, অস্মিকার বাবা সম্প্রতি এই ব্যাপারে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, “অনেকের ধারণা ছিল যে, অরিজিৎ সিং আমাদের সাহায্য করেছেন। কিন্তু সে সত্যি নয়। কিছু পেজ ভুল তথ্য ছড়িয়েছে যে তিনি সাহায্য করেছেন, কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো সাহায্য আমাদের কাছে আসেনি। আমরা চাই, যদি তিনি আমাদের সাহায্য করেন, তবে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।”

এছাড়া, অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী সম্প্রতি অস্মিকার বাড়িতে এসে ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, যাতে অস্মিকার রোগ ও তার চিকিৎসার জন্য মানুষের সাহায্য আহ্বান করা হয়েছে।

অস্মিকার মা লক্ষ্মী সরকার দাস বলেন, “ও যখন তিন মাসের ছিল, তখন তেমন কিছু সমস্যা ছিল না। কিন্তু এরপর অস্বাভাবিক ভাবে পা তুলতে না পেরে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়ি। একসময় বুঝতে পারলাম, মেয়েটি একটি বিরল রোগে আক্রান্ত।”

অস্মিকার মা ও বাবা এখনো কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, কিন্তু তারা আশা করছেন, মানুষের সহায়তা ও সেলিব্রিটিদের সাহায্যে তারা তাদের মেয়ের জন্য সেই ১৬ কোটি টাকার ইঞ্জেকশন সংগ্রহ করতে পারবেন।

এখন শুধু একটাই আশা— অস্মিকার সুস্থ হয়ে ওঠা, যা সে পেতে পারে যদি সমাজের প্রতিটি মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।