“অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতো বিভিন্ন দেশ থেকে”- জওয়ানকে গ্রেফতার করলো সিবিআই

কেন্দ্রীয় বাহিনীতে বেআইনি নিয়োগের একটি চক্রে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া জওয়ান মহেশ কুমার চৌধুরীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন দেশ থেকে টাকা ঢুকেছে বলে দাবি করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। বুধবার আলিপুরে সিবিআইয়ের সেকেন্ড কোর্টে তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটির মহেশের অ্যাকাউন্টে এক কোটি টাকা পাওয়া গেছে। বিচারক সুজিত কুমার ঝা মহেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নাগরিকদের ভারতীয় সেনা কিংবা আধা-সামরিক বাহিনীতে চাকরি দেওয়ার প্রমাণ জানতে চেয়ে মন্তব্য করেন, “এ রকম অভিযোগ খুবই সিরিয়াস বিষয়।”

এই চক্রের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৮ অগস্ট এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলার পর সিবিআই এই তদন্ত শুরু করে, যেখানে বলা হয়েছিল যে বেআইনি নিয়োগ চক্রটি পাকিস্তানিদের ভারতীয় সেনা ও আধা-সামরিক বাহিনীতে চাকরি দিয়েছে। আদালতে সিবিআই জানায় যে, মহেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আন্তর্জাতিক লেনদেন রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা ঢুকেছে।

৩১ জানুয়ারি, ২০২৫-এ সিবিআই মহেশ কুমার চৌধুরীকে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়া এলাকায় এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং স্টোর ডিপো থেকে গ্রেপ্তার করে। সিবিআই জানায়, মহেশ ভুয়ো নথি তৈরি করে দেশের সীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বেআইনি নিয়োগের চক্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সিবিআই জানিয়েছে, এই চক্রটি পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা ও মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চল থেকে ভুয়ো ডোমিসাইল সার্টিফিকেট তৈরি করে, যা দিয়ে অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের বেআইনি নিয়োগ করা হত। সিবিআই দাবি করে যে, মহেশ চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের বাইরে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে বেআইনি ভাবে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিপন্ন করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এদিন মহেশের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, কোন প্রমাণ নেই যে পাকিস্তানি নাগরিকরা ওই চক্রের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। আইনজীবী আরও বলেন, মহেশ তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য জমি বেচে পাওয়া এক কোটি টাকা ব্যাঙ্কে রেখেছিলেন। তবে সিবিআই জানিয়েছে, মহেশ এই টাকার বিনিময়ে চাকরি প্রার্থীদের থেকে চার থেকে ছয় লক্ষ টাকা নিয়েছেন, যেগুলি কখনও সরাসরি, কখনও বা দালালদের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন।

বিচারক সিবিআইয়ের কেস ডায়েরি এবং প্রমাণ পর্যালোচনা করার পর মহেশ কুমার চৌধুরীকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সিবিআই বর্তমানে মহেশের সিনিয়রদের সঙ্গে চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে।