“আমি যদি বেঁচে থাকি…?”,-বাংলাদেশে হামলার মধ্যে গর্জে উঠলেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসিত অবস্থান থেকে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে এক জোরালো ভাষণ প্রদান করেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তাঁকে এবং তাঁর বোনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।

হাসিনা বলেন, “এসব হামলার পরও যদি আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন, তাহলে অবশ্যই কিছু কাজ করতে হবে। তা না হলে এতবার মৃত্যুকে কীভাবে পরাজিত করতে পারতাম?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কেন বাড়িতে আগুন দেওয়া হল? আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিচার দাবি করছি। আমি কি আমার দেশের জন্য কিছু করিনি? তাহলে এত অপমান কেন?”

সম্প্রতি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা ‘২৪-এর বিপ্লবী ছাত্র জনতা’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী। ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের পতনের পরে গত আগস্টে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির এই বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল। তারপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

গত বছর ছাত্র আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। গত ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেই থেকে সেখানেই রয়েছেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সম্প্রতি ইউনূস সরকার জানিয়েছে, হাসিনা এবং আরও ৯৬ জনের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। এর পরপরই ভারতে হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে। ইউনূস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “স্বল্পমেয়াদে হলেও নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশে তার (শেখ হাসিনা) কোনো জায়গা নেই… আওয়ামী লীগের কোনো জায়গা নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা জনগণকে নিয়ন্ত্রণ (দমন-পীড়ন) করেছে, রাজনৈতিক দলকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো ফ্যাসিস্ট দলের অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়।”

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। শেখ হাসিনা তাঁর সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দেশের মানুষের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।