ChatGPT ও DeepSeek-নিয়ে কঠোর কেন্দ্র, সরকারি কর্মীদের কড়া নির্দেশ মোদী সরকারের

ভারত সরকার সম্প্রতি এক নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে সরকারি কর্মচারীদের AI অ্যাপ এবং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের জারি করা এই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু সরকারি কর্মচারী অফিসের কম্পিউটার এবং ল্যাপটপে AI অ্যাপ (যেমন ChatGPT, DeepSeek ইত্যাদি) ব্যবহার করছেন, যা দেশের গোপন নথি ও তথ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
সরকারি কম্পিউটারে AI অ্যাপ নিষিদ্ধ
সরকারি সার্কুলারে বলা হয়েছে যে, অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য সরকারি ডিভাইসে AI অ্যাপ এবং টুল ব্যবহার করা যাবে না। তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা AI ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করতে চান না, বরং সরকারি তথ্য ও নথির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চান।
বিদেশি AI অ্যাপ ব্যবহারের ঝুঁকি
ভারতে বর্তমানে ChatGPT, DeepSeek এবং Google Gemini-এর মতো একাধিক বিদেশি AI অ্যাপ রয়েছে, যা কর্মীদের কাজ সহজ করতে সাহায্য করে। তবে, এই AI টুলগুলোর একটি বড় সমস্যা হল, এগুলি ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারীর ডিভাইস থেকে বিভিন্ন অনুমতি চেয়ে থাকে। ফলে সরকারি নথির তথ্য ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এই ঝুঁকির কারণেই ভারত সরকার AI ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করেছে।
AI অ্যাপ কীভাবে কাজ করে?
AI অ্যাপ এবং চ্যাটবটের মাধ্যমে অনেকেই চিঠি লেখা, অনুবাদ, গবেষণা, এবং প্রেজেন্টেশন তৈরি করার কাজ সহজ করেন। ব্যবহারকারীদের শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু টেক্সট বা প্রম্পট দিতে হয়, এবং AI স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ফলাফল তৈরি করে।
DeepSeek-এর উত্থান
চীনা স্টার্টআপ DeepSeek সম্প্রতি তার সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রায় ২০ মাস আগে শুরু হওয়া এই স্টার্টআপটি ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারিতে DeepSeek R1 ChatBot চালু করে, যা রাতারাতি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং অনেক পুরনো AI কোম্পানির রেকর্ড ভেঙে দেয়।
নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ
সরকারি কর্মচারীদের কাছে সরকার অনুরোধ জানিয়েছে যে, তারা যেন অফিসিয়াল কাজের জন্য সরকারি ডিভাইসে কোনো ধরনের AI অ্যাপ ব্যবহার না করেন। এর ফলে তথ্য সুরক্ষিত থাকবে এবং দেশের গোপন নথি ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।