‘‘মহাকুম্ভে এটাই ছিল মূল সমস্যা …?”-মহাকুম্ভে অব্যবস্থার গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের

আজকের মৌনী অমাবস্যার দিনে কুম্ভ মেলা এলাকায় ঘটে গেছে মর্মান্তিক একটি পদপিষ্টের ঘটনা। স্নান শেষে পুণ্যার্থীদের ফেরার পথ নিয়ে বিভ্রান্তি এবং জনসমাগমের জটিলতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেলার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, অমৃত স্নান শেষে পুণ্যার্থীরা সঠিক নির্দেশনা না পাওয়ায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। সঙ্গম নোজ়ে যেভাবে এসেছিলেন, ঠিক সেই পথ দিয়েই তাঁরা ফেরার চেষ্টা করেন। তবে, একই সময়ে ওই পথ দিয়েই আরও হাজার হাজার পুণ্যার্থী অমৃত স্নান করতে আসছিলেন। এর ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, এবং ভিড়ের চাপে কিছু মানুষ পদপিষ্ট হয়ে পড়েন।

এক মহিলা, যিনি তাঁর শিশুকে নিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন, বলেন, ‘‘কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। অনেক লোক আমাদের পিছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছিল, কিন্তু সামনে যাওয়ার কোনও উপায় ছিল না। আমরা বাচ্চাকে নিয়ে চেষ্টা করছিলাম যেন ধাক্কা না দেয়।’’

স্থানীয় সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট নির্মাতা বিবেক মিশ্র জানান, ‘‘এটাই ছিল মূল সমস্যা। স্নানের পর পুণ্যার্থীরা কোন পথে ফিরবেন, তা বোঝার সময় না পাওয়ায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাঁদের অনেকের কাছে ভারী মালপত্র ছিল, আর মেলা প্রাঙ্গনে বড় বড় লোহার ডাস্টবিনও ছিল, যেগুলি ভোরের অন্ধকারে দেখা যাচ্ছিল না।’’

অন্য একজন স্থানীয় বাসিন্দা রাম সিং বলেন, ‘‘ফেরার কোনো রাস্তা ছিল না। সব দিকেই জনতার ভিড় ছিল। ফলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। আমাদের সামনে অনেকেই পড়ে যান। ভিড়ের চাপে ফেরার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।’’

প্রসঙ্গত, মৌনী অমাবস্যা কুম্ভ মেলার অন্যতম শুভ দিন হিসেবে পরিচিত, এবং এই দিনে অমৃত স্নান করতে আসা পুণ্যার্থীদের সংখ্যা ছিল প্রচুর। তবে, স্নান করার পর, পুণ্যার্থীদের সঠিক দিক নির্দেশনা এবং অন্য কোনও পথের ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

মেলার বিশেষ কার্যনির্বাহী কর্তা আকাঙ্ক্ষা রানা ঘটনার পর দাবি করেছেন, ‘‘সঙ্গমের পথে কিছু বাধা ভেঙে এগিয়ে যান মানুষ। তাতেই পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি মোটেই গুরুতর নয়।’’

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আরও সতর্কতা ও পরিকল্পনা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।