মহাকুম্ভে ভিড়ে পদপিষ্টে মৃত্যু-মিছিল, সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হলো অমৃত স্নান

মহাকুম্ভে মৌনী অমাবস্যার দ্বিতীয় অমৃত স্নান উৎসবের দিনে পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের কুম্ভ এলাকার ২ নম্বর সেক্টরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মৌনী অমাবস্যায় মহাকুম্ভের দ্বিতীয় অমৃত স্নানের জন্য সারা দেশ থেকে কোটি কোটি পুণ্যার্থী প্রয়াগরাজ পৌঁছেছেন। অনুমান করা হচ্ছে, আজ কুম্ভমেলায় ১০ কোটিরও বেশি পুণ্যার্থী উপস্থিত হতে পারেন। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মহাকুম্ভে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি পুণ্যার্থী সঙ্গমে স্নান করেছেন।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এনএসজি ও র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে চলছে নজরদারি।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আশ্বাস দিয়েছেন, কারা এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য দায়ী তা চিহ্নিত করে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

আখড়া পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র পুরী জানিয়েছেন, আখড়াগুলি ফের অমৃত স্নান শুরু করতে পারে। তবে বসন্ত পঞ্চমীতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

সমাজবাদী পার্টির নেতা ও সাংসদ অখিলেশ যাদব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে টুইট করে আহতদের জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার দাবি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ

সঙ্গমের নাকের অংশে ১১ থেকে ১৭ নম্বর খুঁটির মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হারিয়ে গিয়েছেন। অসম ও মেঘালয় থেকে আসা কিছু পরিবার জানিয়েছে, ভিড়ের চাপে প্রায় ৩০-৪০ জন আহত হয়েছেন।

এক আহত মহিলার পরিবারের সদস্যরা জানান, “হঠাৎ অনেকে চিৎকার করতে শুরু করে, বলছিল অনেকে মারা গিয়েছেন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ পদপিষ্ট হন।”

সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা

মহাকুম্ভে সঙ্গমস্থলে পদপিষ্ট হওয়ার পর আজকের অমৃতস্নান বাতিল করা হয়েছে। আখড়া পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষ আখড়া পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র পুরীর কাছে অমৃতস্নান বন্ধের আবেদন জানিয়েছিল, যার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষের স্পেশাল এক্সিকিউটিভ অফিসার আকাঙ্কা রানা জানিয়েছেন, “সঙ্গম রুটে কিছু ব্যারিয়ার ভেঙে যাওয়ার কারণে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।”

বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা কেন্দ্রীয় হাসপাতালে চলছে এবং উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন সমস্ত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।