“দেশীয় উৎপাদনে জোর”-ল্যাপটপ আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলো কেন্দ্র

কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত ল্যাপটপ আমদানির উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে ইচ্ছুক নয়। ব্যবসায়ীদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে নতুন বছরে সরকার ল্যাপটপ আমদানির উপর বিধিনিষেধ জারি করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার স্মার্টফোন উৎপাদনে দেশীয় শিল্পের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমাতে যে সাফল্য পেয়েছে, ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও সেই একই লক্ষ্য অর্জনে আগ্রহী।

কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণণ জানিয়েছেন, স্থানীয় কারখানায় ল্যাপটপ উৎপাদনের গতি এখনও মন্থর, তাই এই মুহূর্তে আমদানির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে না। তবে, কেন্দ্র আশা করছে যে ডেল এবং এইচপি-র মতো সংস্থাগুলি আগামী অর্থবর্ষের শুরু থেকে ভারতে তাদের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এর ফলে স্মার্টফোনের মতো সাফল্য অর্জিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃষ্ণণ আরও বলেন, ‘এ ধরনের বৈদ্যুতিন পণ্য আমদানি বন্ধ করার সরকারের কোনো উদ্দেশ্য নেই। বিষয়টি স্পষ্ট করা হলো। আমরা কোনো বাধা তৈরি করতে চাই না। দেশে পর্যাপ্ত ল্যাপটপ এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন পণ্য সরবরাহ রয়েছে, সে বিষয়ে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করাই আমাদের কাজ। একই সাথে, দেশেই ল্যাপটপসহ বৈদ্যুতিন পণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে ল্যাপটপের আমদানি কমানো হবে।

সরকার সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে ভারতে বিনিয়োগ করতে এবং স্থানীয় কারখানায় সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে উৎসাহিত করার জন্য একটি নতুন আর্থিক ভাতা প্রকল্প (ইনসেনটিভ স্কিম) চালু করার পরিকল্পনা করছে। এর আগে এই খাতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্যাকেজ আনা হয়েছিল।

কৃষ্ণণ স্বীকার করেছেন যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে পূর্বে যে প্যাকেজ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, তা অন্যান্য দেশের তুলনায় কম ছিল। তবে তিনি জানিয়েছেন যে ভবিষ্যতে এই পার্থক্য আর থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য দেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের একটি শক্তিশালী ভিত্তি ইতিমধ্যেই রয়েছে। আমাদের ক্ষেত্রে নতুন করে শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাই, আমার মনে হয়, আমাদের একটি সরল, সহজে কার্যকর করা যায় এমন একটি পরিষ্কার ব্যবস্থা চালু করা দরকার, যার সুবিধা আগ্রহী সংস্থাগুলি সহজেই গ্রহণ করতে পারবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে আগের তুলনায় নতুন প্যাকেজের পরিমাণ অনেক বেশি হবে।

প্রসঙ্গত, ভারতে তৈরি আইটি হার্ডওয়্যার পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার জন্য সরকার নতুন ‘উৎপাদন নির্ভর ভাতা’ বা প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (পিএলআই) স্কিম চালু করেছে।