টাকা পেয়েও চুক্তির শর্ত মানেননি, তরুণীর খোরপোশ বন্ধ করে দিলো হাইকোর্ট

স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা তুলে নেওয়া এবং ডিভোর্স দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর স্বামীর। চুক্তি অনুযায়ী ৩২ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরেও ওই তরুণী ফ্যামিলি কোর্টে স্বামীর কাছে খোরপোশ দাবি করেন। তবে কলকাতা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে।
বছর সাতেক আগে বেঙ্গালুরুর এক পরিবারে হরিদেবপুরের এক তরুণীর বিয়ে হয়।বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল।বছর চারেক আগে তরুণী হরিদেবপুর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে যৌন বিকৃতি, গার্হস্থ্য হিংসা সহ একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।পুলিশ তাঁর স্বামীকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করে আনে। প্রায় ৫০ দিন জেল খাটার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।এরপর দু’পক্ষের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, মামলা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে এই টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
চুক্তির প্রথম পর্যায়ে, ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, তরুণী ৩২ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন।কিন্তু শর্ত না মেনে তিনি কলকাতার ফ্যামিলি কোর্টে স্বামীর কাছে মোটা অঙ্কের খোরপোশ দাবি করেন।ফ্যামিলি কোর্টের অ্যাডিশনাল প্রিন্সিপাল জজ তরুণীর স্বামীকে প্রতি মাসে ৮০ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের রায়:
তরুণীর স্বামী এই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ গত শুক্রবার ফ্যামিলি কোর্টের খোরপোশের নির্দেশ খারিজ করে দেন।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:
আদালত উল্লেখ করেছে যে, ফৌজদারি মামলা তুলে নেওয়ার শর্তে ইতিমধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তরুণী প্রথম দফায় ৩২ লক্ষ টাকা নিয়েছেন।
চুক্তি অনুযায়ী, মামলা তুলে নেওয়ার পর তাঁর আরও ৩২ লক্ষ টাকা এবং মামলার নিষ্পত্তি হলে আরও ৬১ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা ছিল।হাইকোর্ট মনে করে, প্রথম দফায় পাওয়া ৩২ লক্ষ টাকা এবং তরুণীর বর্তমান বেতনে তিনি ভালোভাবে জীবন ধারণ করতে পারবেন। তিনি সেই ৩২ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন, তারকোনো প্রমাণও দেখাতে পারেননি। তাই, মূল মামলার ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত খোরপোশের প্রয়োজন নেই।
অন্যান্য তথ্য:
তরুণীর স্বামীর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য ও সায়ন কাঞ্জিলাল নিম্ন আদালতের রায়কে একপেশে বলে অভিযোগ করেন।তরুণীর আইনজীবী দাবি করেন, মামলা চলাকালীন স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে স্বামী বাধ্য।
হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের ২৫ হাজার টাকার জরিমানার নির্দেশও খারিজ করেছে, কারণ এর কোনো ব্যাখ্যা নিম্ন আদালতের রায়ে ছিল না।হাইকোর্ট দ্রুত ডিভোর্সের মূল মামলাটি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে।
এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হলে, তার প্রতিকার পাওয়া যাবে।