BigNews: সন্দেশখালিতে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ, হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন মহিলা

সন্দেশখালি ফের শিরোনামে। এবার তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে উঠল ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ। নির্যাতিতা মহিলার অভিযোগ, গত বছর ১৫ই এপ্রিল দিলীপ মল্লিক নামে তৃণমূলের এক ব্লক সভাপতি এবং সৈকত দাস ওরফে পিকাই সহ তিনজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর থেকে তাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে নির্যাতিতা শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। সুরক্ষা এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ:

নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর ১৫ই এপ্রিল এই ঘটনাটি ঘটে। ১৬ই মে তিনি সন্দেশখালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, অভিযুক্তরা তাকে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করার পরেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেফতার করেনি। উল্টে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য তাকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ নির্যাতিতা:

পুলিশের কাছ থেকে কোনো সাহায্য না পেয়ে অবশেষে নির্যাতিতা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত তাকে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। বুধবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। নির্যাতিতা তার সুরক্ষা এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

সন্দেশখালির অতীত:

প্রসঙ্গত, গত বছর ঠিক এই সময়েই সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এরপর একের পর এক ঘটনায় শিরোনামে উঠে আসে সন্দেশখালি। শেখ শাহজাহান, উত্তম সর্দার, শিবু হাজরার মতো প্রভাবশালীরা গ্রেফতারও হন। সেসময় সন্দেশখালির মহিলারা বছরের পর বছর ধরে তাদের উপর হওয়া নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। যদিও সেই সময় ব্যক্তিগতভাবে কেউ এই অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হননি।

এই নতুন অভিযোগ সন্দেশখালির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, আদালত এই বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয় এবং নির্যাতিতা ন্যায়বিচার পান কিনা।