বিশেষ: বাবা মোটা হলে সন্তানও মোটা হবে? DNA-র ক্ষতিতে যা ঘটতে পারে ? জানালো বিজ্ঞানীরা?

আমরা জানি অতিরিক্ত ওজন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে মানসিক সমস্যা পর্যন্ত, এর প্রভাব বিস্তৃত। কিন্তু আপনি কি জানেন, পিতার অতিরিক্ত ওজন তাঁর সন্তানের স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে?
সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজনের পুরুষদের সন্তানরা প্রায়ই কম ওজনের হয়ে জন্মগ্রহণ করে। গবেষকরা বলছেন, পিতার শরীরের ওজন বৃদ্ধি তাঁর শুক্রাণু এবং জিনগত উপাদানকে প্রভাবিত করে, যার ফলে সন্তানের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পিতার কোমরের আকার এবং বিএমআই (বডি মাস ইন্ডেক্স) যত বেশি, সন্তানের মাথার পরিধি তত কম। অর্থাৎ, শিশুর মস্তিষ্কের বৃদ্ধিও প্রভাবিত হতে পারে।
ডাঃ মারিয়ানা রিনাল্ডি কারভালহো এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সাধারণত মায়ের স্বাস্থ্যের উপর জোর দেই। কিন্তু এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, পিতার স্বাস্থ্যও সন্তানের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
কম ওজনের শিশুরা পরবর্তী জীবনে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
কেন এমন হয়? গবেষকরা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অলস জীবনযাপন এবং ধূমপানের মতো অভ্যাস পিতার জিনগত উপাদানকে পরিবর্তন করে দিতে পারে, যা সন্তানের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।
সুতরাং, একজন পুরুষ যখন পিতা হওয়ার কথা ভাবেন, তখন তাঁর স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
মনে রাখবেন, সন্তানের স্বাস্থ্য শুধু মায়ের উপর নির্ভর করে না। পিতার স্বাস্থ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
কীভাবে এই তথ্যটি আরও ভালভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার: এই তথ্যটি ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদির মতো প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করে অনেক মানুষকে সচেতন করা যাবে।
স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি: বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাসপাতাল এবং স্কুলে স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করে এই তথ্যটি ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।
মিডিয়ায় প্রচার: সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে এই তথ্যটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।
এই তথ্যটি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা সবাই মিলে কাজ করতে পারি।