জাল আধারকার্ড বানিয়ে মুর্শিদাবাদে বসবাস, গ্রেফতার এক বাংলাদেশি-সহ ৩ জন

সম্প্রতি বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা টিমের দুই সদস্য মিনারুল শেখ ও মহম্মদ আব্বাস আলিকে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থেকে গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, মুর্শিদাবাদ থেকেই আরও এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুধু তাই নয়, জাল আধার কার্ড তৈরি করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় মুর্শিদাবাদের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলি আরও একবার সামনে এসেছে।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়:

সোহেল রানা: লালগোলা এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তির বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায়। তার বিরুদ্ধে জাল আধার কার্ড তৈরির অভিযোগ রয়েছে।

অলিউল আলম: লালগোলার বালিগ্রাম থেকে গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোহেল রানাকে বেআইনিভাবে আধার কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে।

সাহরুল মোল্লা: জলঙ্গী থানার দয়ারামপুর থেকে গ্রেফতার হওয়া এই দালাল বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশে সাহায্য করত বলে অভিযোগ।
সোহেল রানার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য:

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছে এবং এখানে জাল আধার কার্ড তৈরি করেছিল। লালগোলা থানার আটরশিয়ার বাসিন্দা সোহেল রানার আধার কার্ডে তার বাবা-মায়ের আসল নামের পরিবর্তে তার মেসো ও মাসির নাম (আব্দুল রশিদ ও শেফালী বিবি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। তার আসল বাবা-মায়ের নাম সাইফুল ইসলাম ও জুলেখা বিবি।

প্রায় সাত বছর আগে সোহেল রানা সেলিনা খাতুন নামে এক ভারতীয় মহিলাকে বিয়ে করে। সে চেন্নাই সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করত। সম্প্রতি সে তার আধার কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করে চেন্নাই থেকে লালগোলা করে।

তদন্তের অগ্রগতি:

পুলিশ এই ঘটনাগুলির গভীরতা খতিয়ে দেখছে এবং এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে, আনসারুল্লা বাংলা টিমের সদস্যদের গ্রেফতারির সাথে এই ঘটনাগুলির কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনাগুলি মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাল পরিচয়পত্র তৈরির চক্রের উপর আরও একবার আলোকপাত করল।