এবার চিন রাজ্যও নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি বিদ্রোহীদের, জেনেনিন সর্বশেষ পরিস্থিতি

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইন দখলের পর এবার দক্ষিণাঞ্চলের চিন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণও নেয়ার দাবি করেছে দেশটির সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিদ্রোহীরা।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) অঞ্চলটিতে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী চিন ব্রাদারহুড দাবি করে, সপ্তাহের শেষ দিকে মিনদাত ও কানপেটলেট শহর দুটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় চিন রাজ্যের ৮০ শতাংশই জান্তার হাতছাড়া হয়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীকে চিন ব্রাদারহুডের মুখপাত্র ইয়াও ম্যাং জানান, সশস্ত্র এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চল জান্তার কাছ থেকে মুক্ত করেছে। তাদের বাহিনী এখন রাজ্যের উত্তরে ফালামের একমাত্র অবশিষ্ট জান্তা অবস্থান ২৬৮-পদাতিক ব্যাটালিয়নের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, রাজধানী হাক্কা, ফালাম, তেদিম ও থানটালাং শহরে জান্তার চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। এর বাইরে পালেতাওয়া, মাতুপি, কানপেটলেট, মিনদাত মুক্ত হয়েছে। কানপেটলেট ও মিনদাত থেকে গত রোববার সকালে ১৩ জন রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্ত করা হয়েছে। রোববার সকালে বিরোধী বাহিনী পৌঁছানোর পর জান্তা বাহিনী কানপেতলেত ছেড়ে চলে গেছে।
উল্লেখ্য, চিন রাজ্যভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইয়াও ডিফেন্স ফোর্স, সাগাইং অঞ্চলের উত্তরাঞ্চলীয় গাংগাউ জেলার ইয়াও আর্মি এবং মনিওয়া পিপলস ডিফেন্স ফোর্স মিলে গঠন করেছে চিন ব্রাদারহুড। প্রতিবেদন অনুসারে, মিন্দাত, ফালাম ও কানপেতলেতের ওপর আক্রমণের জন্য এই গোষ্ঠীগুলো চার মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এরপর, গত ৯ নভেম্বর মিন্দাত এবং ফালামে অপারেশন ‘সিবি’ শুরু হয়। এরপর গত শুক্রবার চিন ব্রাদারহুড জানায় যে, ১৬৮ জন জান্তা সেনা ও পুলিশ তাদের পরিবারসহ আত্মসমর্পণ করেছে এবং মিন্দাতে জান্তা বাহিনীর ২৭৪ ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের পতন হয়েছে।
চিন ব্রাদারহুডের এক সদস্য জানিয়েছেন, বর্তমানে ৩০০ জনের বেশি জান্তা সেনা ও পুলিশ আটক আছে তাদের হাতে এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার গোষ্ঠীটি জানায়, রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মি মিন্দাত অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ, শক্তি বাড়ানো এবং সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছে।
এদিকে, চিনল্যান্ড কাউন্সিলের পক্ষে লড়াইরত চিন ন্যাশনাল আর্মি অপারেশন জেরিকো শুরু করেছে এবং চলতি মাসের শুরুতে হাখা ও থানতলাংয়ের মধ্যবর্তী টিমিত সমভূমি দখল করেছে জান্তাবাহিনীর কাছ থেকে।
এদিকে, মিয়ানমারেও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না জান্তাবাহিনী। গত ২১ ডিসেম্বর মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় হেডকোয়ার্টার দখলে নেয়ার দাবি করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।
তারা জানিয়েছে, তারা আরাকান রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে থেকে ৩১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আন টাউনশিপের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর আগে শুক্রবার কেন্দ্রীয় আরাকানে জান্তা বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় আঞ্চলিক সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণও নেয় আরাকান আর্মি।
সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে আন টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আরাকান আর্মি এখন আরাকানের ১৪টি টাউনশিপ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে আরাকানের—পায়েকতাউ, মিনব্যা, ম্রউক-উ, কিয়াকতাউ, মিয়েবন, পন্নাগিউন, রামরি, রথিডং, বুথিডং, থানদে, টাউংগুপ, মংডু এবং চিনল্যান্ডের পালেতওয়া।
আরাকান আর্মি আরো বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর আরাকানকে জান্তা বাহিনীর শাসন থেকে মুক্ত করার জন্য আক্রমণ চালানোর পর এএ—এর দখলের বাইরে আছে মাত্র চারটি শহর—সিতওয়ে, কায়াকপায়ু, গাওয়া এবং মুনাউং।