“স্বামীর বাড়িতে আত্মীয়–বন্ধু এনে রাখা ‘অত্যাচার’”- বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

স্বামীর অপত্তি সত্ত্বেও যদি স্ত্রী তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিয়মিত বাড়িতে আনাগোনা করতে দেন এবং তারা যদি সেখানে থাকতে শুরু করেন, তাহলে এটিকে স্বামীর উপর ‘অত্যাচার’ হিসেবে গণ্য করা হবে। সম্প্রতি একটি বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে এবং স্বামীর পক্ষেই রায় দিয়েছে।
২০০৫ সালে এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন বছরের মধ্যেই তিনি বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, বিয়ের এক বছর পর থেকে তারা কোলাঘাটে থাকতে শুরু করেন। এরপর স্ত্রীর চাকরির কারণে উত্তরপাড়ায় থাকতে শুরু করলে, স্ত্রী আর কোলাঘাটের বাড়িতে ফিরে যেতে চাননি। স্বামীর দাবি, স্ত্রীর যুক্তি ছিল শিয়ালদহে তার অফিস হওয়ার কারণে উত্তরপাড়ায় থাকাই তার পক্ষে সুবিধা।
স্বামীর আরও অভিযোগ, তিনি যখন স্ত্রীর এই যুক্তিতে আপত্তি জানান, তখন স্ত্রী তার আত্মীয়-স্বজন এবং মহিলা বন্ধুদের নিয়মিত কোলাঘাটের বাড়িতে নিয়ে এসে থাকতে শুরু করেন। অন্যদিকে, স্ত্রীর অভিযোগ ছিল তার স্বামী তার মায়ের পেনশন এবং তার নিজের বেতনের টাকা নিতে চাপ দিতেন।
এই মামলায় এর আগে নিম্ন আদালত স্বামীর বিবাহ-বিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। এরপর স্বামী হাইকোর্টে আপিল করেন। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ স্বামীর ‘অত্যাচারের’ অভিযোগটিকে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, স্বামীর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও যদি স্ত্রী নিয়মিত আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধব এনে বাড়িতে রাখেন, তাহলে স্বামীর উপর অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করা যায় না।
হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করে যে, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকার কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই যুক্তির ভিত্তিতে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে স্বামীর বিবাহ-বিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করে।
এই রায়ের মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া এবং বসবাস করা স্বামীর জন্য মানসিক অত্যাচারের কারণ হতে পারে এবং এটি বিবাহ-বিচ্ছেদের একটি বৈধ কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।