R.G Kar-এর সেমিনার হলে ধর্ষণ প্রতিরোধের চিহ্ন নেই, তাহলে নৃশংসতা কীভাবে? এলো চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Medical College) সেমিনার হল থেকে ডাক্তারি ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনল সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (CFSL) রিপোর্ট। ১২ পাতার এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সেমিনার হলটি (seminar hall) আদৌ ‘ক্রাইম সিন’ (crime scene) ছিল না। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই দানা বেঁধেছে নতুন রহস্য, উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।

সিএফএসএল রিপোর্টের দাবি

সিএফএসএল (CFSL) -এর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সেমিনার হলে বা সেখানে পাওয়া ম্যাট্রেসে (mattress) কোনও ধস্তাধস্তির (scuffle) প্রমাণ মেলেনি। এমনকি, ধর্ষণের (rape) কোনো প্রতিরোধের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরির পি কে মহাপাত্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল।

নতুন প্রশ্নের জন্ম

এই রিপোর্টের পর একাধিক প্রশ্ন উঠছে। যদি সেমিনার হল ক্রাইম সিন না হয়, তাহলে অপরাধ কোথায় সংগঠিত হয়েছিল? কী উদ্দেশ্য ছিল সেমিনার হলকে ক্রাইম সিন হিসেবে দেখানোর? এই ঘটনায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের (Sanjay Roy) সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, সেই সন্দেহও জোরালো হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, অপরাধস্থল বদল করে কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল কিনা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হল থেকে এক ডাক্তারি ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে ধর্ষণ ও খুনের। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police) সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে। পরে আদালতের নির্দেশে এই তদন্তের ভার নেয় সিবিআই (CBI)।

তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ

এই ঘটনায় তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ (Sandip Ghosh) এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে (Abhijit Mondal) সিবিআই গ্রেফতার করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা অপরাধস্থল সুরক্ষিত রাখার কোনও পদক্ষেপ করেননি। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার পরে সেমিনার হলের ভিতরে অনেক লোক ছিলেন, যা প্রমাণ লোপাটের অভিযোগকে আরও জোরালো করে।

পরিবারের অভিযোগ

নির্যাতিতার পরিবার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল যে, সেমিনার হল প্রকৃত ক্রাইম সিন নয় এবং ঘটনাস্থল বদল করা হয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ ছিল, ম্যাট্রেসের চাদরও বদলানো হয়েছে। সিএফএসএল রিপোর্ট তাদের এই অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করল।

হাইকোর্টে মামলা

এই ঘটনার পুনর্তদন্তের দাবিতে নির্যাতিতার পরিবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের করেছে এবং ৪২টি প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, সঠিক তদন্ত না হলে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাবে।

তদন্তের ভবিষ্যৎ

সিএফএসএল রিপোর্টের পর আরজি কর হত্যাকাণ্ড নতুন মোড় নিল। এখন তদন্তকারীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হল, আসল অপরাধস্থল খুঁজে বের করা এবং কীভাবে অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল, তা উদ্ঘাটন করা। এই রিপোর্টের ফলে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।