আশঙ্কাই সত্যি হলো, বাংলায় ঢুকে পড়ল ভয়ঙ্কর বাঘ, ভয়ে কাঁটা জঙ্গলমহল

ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া থেকে বাঘিনী জিনাত প্রবেশ করেছে পশ্চিমবঙ্গে। শুক্রবার সকালে বেলপাহাড়ি রেঞ্জের ওদলচুয়া সংলগ্ন মাছগেড়িয়া জঙ্গলে তাকে দেখা যায়। এই জঙ্গল থেকে সে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর হয়ে বাঁকুড়া পর্যন্তও যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি লোকালয়ে প্রবেশ করাও অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও বনদপ্তর এখনই তেমন কোনও সম্ভাবনা দেখছে না।

জানা গেছে, ওই এলাকায় বাঘ ধরার বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে এবং ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সমস্ত ডিভিশনের বনকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা ‘এই সময় অনলাইন’-কে জানান, “এটা নিশ্চিত যে বাঘটি রাজ্যে প্রবেশ করেছে। আমরা জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় মাইকে প্রচার শুরু করেছি। সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অহেতুক আতঙ্কের কারণ নেই, তবে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিন বছর বয়সী বাঘিনী জিনাতকে ধরার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করা হলেও কোনো লাভ হয়নি। সিমলিপালের জঙ্গল ছেড়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে সে ১০ ডিসেম্বর ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়ার জঙ্গলে এসে পৌঁছয়। আশঙ্কা ছিল, সে একদিন এ রাজ্যে প্রবেশ করবে, এবং সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।

স্বাভাবিকভাবেই শাল-মহুলের জঙ্গলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ৬ বছর আগে বাঘের উৎপাতে যে আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল, সেই স্মৃতি আবার ফিরে আসায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০১৮ সালে প্রায় তিন মাস বাঘের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়েছিল তাদের। সেই বাঘ কোথা থেকে এসেছিল, তা আজও রহস্য। তবে এ বার বাঘ কোথা থেকে এবং কীভাবে এসেছে, তা অনেকটাই স্পষ্ট।

মহারাষ্ট্রের আন্ধেরি-তাডোবার জঙ্গল থেকে জিনাত ও যমুনা নামের আরও একটি বাঘিনীকে বংশবৃদ্ধির জন্য ওড়িশার সিমলিপালে আনা হয়েছিল। ২৪ নভেম্বর সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভের মুক্ত জঙ্গলে ছাড়ার আগে কয়েক দিন কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছিল জিনাতকে। কিন্তু সেখানে বেশি দিন না থেকে সে এ দিকে চলে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে নজরদারি শুরু করেছেন ঝাড়গ্রামের বনাধিকারিকরা। ঝাড়গ্রামে বাঘ ঢোকার খবর পেয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের একাংশেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, সুন্দরবন থেকে চার-পাঁচ জনের একটি বিশেষ দল আনা হয়েছে। বাঘটি দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।