বিয়েতে বরযাত্রী নিয়ে হাজির বর, পোলাও-পনির না বানিয়ে বেপাত্তা কেটারার মালিক

মেয়ের বিয়ে, আত্মীয়-স্বজনে বাড়ি ভর্তি, বরযাত্রী এসে হাজির, কিন্তু ক্যাটারারের কোনো পাত্তা নেই! এমন এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছিল দক্ষিণ কলকাতার গরফার বাসিন্দা বিধানচন্দ্র ও হেনা বিশ্বাসকে। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ক্যাটারার রঙ্গন নিয়োগীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ নভেম্বর। হেনা বিশ্বাসের মেয়ের বিয়ে ছিল। ‘কন্টিনেন্টাল ক্যাটারিং সার্ভিস’ নামক একটি ক্যাটারিং সংস্থার সাথে ৫৫০ জনের খাবারের অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। মেনুতে ছিল পিনাকোলাডা সহ বিভিন্ন ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক এবং কড়াইশুঁটির কচুরি, ছোলার ডাল, আলুরদম, পনির, গ্রিন পিস পোলাও, চাটনি, মিষ্টি সহ এলাহি ভেজ মেনু। এই ক্যাটারিং এর জন্য ৫ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা চুক্তি হয়েছিল এবং পুরো টাকাটাই রঙ্গনকে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বিয়ের দিন সকালে রঙ্গন শুধু একজন পাচক পাঠান, কোনো কাঁচামাল পাঠাননি। বিশ্বাস দম্পতি কোনোমতে ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বিকেলে রান্নার ঠাকুর জানান যে ক্যাটারারের আর কেউ আসেনি। হেনা অভিযোগ করেন যে রঙ্গনের ফোন প্রথমে বন্ধ ছিল এবং পরে অন্য নম্বর থেকে ফোন করলে তিনি ধরেন এবং জানান যে তিনি আইসিইউ-তে আছেন। যদিও হেনার সন্দেহ হয় যে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। এর আগে দুপুরে রঙ্গন হেনার ভাইকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে খাবার ঠিক সময়ে পৌঁছে যাবে। কিন্তু স্ন্যাক্স তো দূরের কথা, মেন কোর্সের খাবারও আসেনি। শেষ পর্যন্ত রঙ্গন ফোন বন্ধ করে দেন।

দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন এবং বরযাত্রী এসে পৌঁছান। অসহায় অবস্থায় বিশ্বাস দম্পতি স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল কিনে পাচককে দিয়ে লুচি-তরকারি তৈরি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবুও প্রায় ২০০ জন অতিথি খাবার না পেয়ে ফিরে যান।

এই ঘটনায় হেনা বিশ্বাস গড়িয়াহাট থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান যে ১৬ ডিসেম্বর তারা রঙ্গনের বাড়িতে টাকা চাইতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং রঙ্গনের ছেলেও তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। পুলিশ জানায় যে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় রঙ্গন তদন্তে সহযোগিতা করেননি। প্রতারণা ও টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে মঙ্গলবার রঙ্গনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হেনার আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য জানান যে এই ঘটনার ফলে তার মক্কেলের মান-সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। আদালতে পেশ করা হলে বিচারক রঙ্গনকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায় যে এর আগেও ডানকুনি ও কসবাতে বিয়ের খাবারের অর্ডার নিয়ে একই ভাবে প্রতারণা করেছিলেন রঙ্গন। রঙ্গন ও তার ছেলে রিভুর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে বিয়ের মতো অনুষ্ঠানে ক্যাটারার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।