আবাসের পরে পাট্টা, বড় অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আবাস যোজনা নিয়ে দুর্নীতির তদন্ত চলার মধ্যেই, এবার পাট্টা বিলিতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠল। পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুরে বিত্তশালীদের পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রী জেলাশাসক এস পোল্লাবলমকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

জেলাশাসকের নির্দেশে বিডিও, বিএলআরও ও পুলিশ সালানপুরের পাট্টা বিলি নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শুরু হওয়ার পরেই পাট্টার তালিকায় নাম থাকা এক ব্যক্তির নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বিএলআরও সুমন সরকার। সালানপুর ব্লকের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস জানান, ‘তদন্ত শুরু হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের স্থায়ী সমিতির বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

অভিযোগ অনুযায়ী, সালানপুরের আছড়ায় সরকারি খাসজমির পাট্টা প্রাপকদের তালিকায় প্রাক্তন এক প্রধানের স্ত্রী, ওই প্রাক্তন প্রধানেরই শ্যালক, দুটি সোনার দোকানের মালিকের স্ত্রীর নাম রয়েছে। এছাড়াও, আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম আছে যাদের দোতলা বাড়ি, গাড়ি এবং প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা মন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছে ৯ জন নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিস্তারিত তথ্যসহ লিখিত অভিযোগ জানান। একই ভাবে সিপিএমের কৃষক সভাও জেলার ভূমি রাজস্ব দপ্তর ও বিডিও-র কাছে তালিকা দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অবিলম্বে এই তালিকা বাতিল করে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পাট্টা তুলে দেওয়া হোক।

বিএলআরও সুমন সরকার জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট জেলার ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি জায়গায় নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি এবং সেটি পুলিশকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস জানান, ‘পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের স্থায়ী সমিতি পাট্টা প্রাপকদের তালিকা তৈরি করে। এই অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার পর আমরা পুনরায় বৈঠক ডাকার জন্য পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে অনুরোধ করেছি। সেখানে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই মন্ত্রী মলয় ঘটক জেলায় পুকুর ভরাট ও খাস জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর জেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করে আসানসোলের পলাশডিহা, দক্ষিণ ধাদকা, নরসিংহবাঁধ, সালানপুর, হিরাপুর, কুলটি সহ বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। এর থেকেই স্পষ্ট যে প্রশাসন এইসব অভিযোগের ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর।