বিশেষ: লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন! গৌরী সেন আসলে কে? জেনেনিন কে সেই বিখ্যাত লোক?

“লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন” – এই প্রবাদটি বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত। যখন কেউ অতিরিক্ত খরচ করে বা কারও অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন প্রায়শই এই প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই প্রবাদের উৎস কী? গৌরী সেন কি সত্যিই কেউ ছিলেন? এই প্রবাদের পেছনের গল্পটি আজ আমরা জানব।

গল্পটি শুরু হয় ১৫৮০ সালে, যখন মুঘল সম্রাট আকবর দিল্লির সিংহাসনে আসীন। হুগলীর বালাগ্রামে (বর্তমান হাওড়া জেলার বালি) সুবর্ণবণিক পরিবারে জন্ম হয় গৌরীর, যাঁর আসল নাম ছিল গৌরীশঙ্কর সেন।

সেই সময়ে বাংলায় পর্তুগিজদের প্রভাব ছিল। নবাবের অনুমতি নিয়ে তারা ভাগীরথী নদীর তীরে বাণিজ্য বন্দর স্থাপন করে। এই সময়েই গৌরী বড় হন এবং ব্যান্ডেলে পর্তুগিজ মিশনারিদের দ্বারা নির্মিত উপাসনা গৃহে (যা আজ ব্যান্ডেল চার্চ নামে পরিচিত) চাকরি পান। তিনি বিবাহ করেন এবং দুটি সন্তানের জনক হন।

কিন্তু এই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ১৬৩২ সালে মুঘলদের আগমন এবং পর্তুগিজদের প্রভাব কমতে থাকায় গির্জার অবস্থা খারাপ হয়ে যায় এবং গৌরী সেন চাকরি হারান। আর্থিক কষ্টের সময়ে তিনি বৈদেশিক বাণিজ্যে মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সময়েই ব্যবসায়ী বৈষ্ণবচরণ শেঠের সাথে তাঁর পরিচয় হয়।

গৌরী সেন এবং বৈষ্ণবচরণ শেঠ সমান অংশীদারিত্বে ব্যবসা শুরু করেন। তাঁদের ভাগ্য তখন খোলে যখন তাঁরা জলের দামে একটি পুরনো জাহাজের দস্তা নিলামে কেনেন। কিন্তু জাহাজটিতে দস্তার বদলে লুকানো ছিল রুপোর মোহর। এই অপ্রত্যাশিত ধনপ্রাপ্তি গৌরী সেনের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেয়।

বৈষ্ণবচরণের অনুমতি নিয়ে গৌরী সেন আলাদাভাবে ব্যবসা শুরু করেন এবং নিজের বুদ্ধি ও পরিশ্রমে বিপুল সম্পদের মালিক হন। তিনি কলকাতায় একটি বিশাল বাড়ি তৈরি করেন। গৌরী সেন বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বরের আশীর্বাদে তিনি এই ধন পেয়েছেন, তাই তিনি এই সম্পদ একা ভোগ করতে চাননি। যখনই কেউ বিপদে পড়ে তাঁর কাছে সাহায্য চাইত, তিনি নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করতেন। এই কারণে তিনি দানবীর হিসেবে পরিচিত হন।

এই দানশীলতার কারণেই “লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন” প্রবাদটির জন্ম হয়, যা আজও প্রচলিত।