পার্লামেন্টে মোদি-আদানি সেজে হাজির দুই এমপি, সাংবাদিক হলেন রাহুল গান্ধী

সংসদে অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ দেখালো কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিল্পপতি গৌতম আদানির মুখোশ পরে সংসদ ভবনে গেলেন দলের দুই সংসদ সদস্য মানিকম টেগোর ও সপ্তগিরি শঙ্কর উলাকা। এই মুখোশ-প্রতিবাদ অভিনব না হলেও অভিনবত্ব ছিল রাহুল গান্ধীর ভূমিকায়।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোবাইল ফোনে দু’জনের ছবি তুলতে তুলতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল জানতে চান, মোদি ও আদানির মধ্যে সম্পর্ক কী? রসিকতা করে তার উত্তরও দেন দু’জন।
সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই আদানিবিরোধী প্রতিবাদকে উচ্চগ্রামে নিয়ে যেতে চাইছে কংগ্রেস। ‘আদানি ঘুষকাণ্ড’ নিয়ে শোরগোল শুরু হওয়ার পরই সম্প্রতি সংসদের মকরদ্বারের সামনে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিক দলগুলোর এমপিদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখান রাহুল। যদিও তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হয়নি ‘ইন্ডিয়া’র দুই দল—সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও তৃণমূল।
এদিন খানিক নাটকীয় ঢঙেই মোদি ও আদানি সেজে সংসদে যান কংগ্রেসের ওই দুই সংসদ সদস্য। দু’জনের ছবি তুলতে তুলতেই রাহুল তাদের বলেন, দু’জনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে। তারপর দুই এমপি একে অপরের হাত ধরে হিন্দিতে বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই সব করব। আমাদের বহু বছরের সম্পর্ক।’
মনে করা হচ্ছে, রসিকতার আড়ালে মোদি ও আদানির ‘ঘনিষ্ঠতার’ প্রসঙ্গে টেনে দুজনকে কটাক্ষ করা হয়েছে।
রাহুলের প্রশ্নের জবাবে আদানির মুখোশ পরিহিত কংগ্রেস এমপি মোদির মুখোশ পরা এমপির উদ্দেশে বলেন, ‘আমি যা বলি, উনি তা-ই করেন।’ এই মন্তব্যের পরই আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিরোধী এমপিদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।
এদিকে রাহুল দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করছেন, শিল্পপতি আদানির নির্দেশে পরিচালিত হন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি। অন্যদিকে মার্কিন আদালতে আদানিদের বিরুদ্ধে ‘প্রমাণসহ অভিযোগপত্র’ (ইনডিক্টমেন্ট) জমা পড়েছে গত ২০ নভেম্বর।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ পাওয়ার বিনিময়ে ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের (মন্ত্রী ও আমলা) ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগরসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাতে। শীতকালীন অধিবেশনের শুরু থেকেই আদানিকাণ্ডের তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবিতে সরব কংগ্রেসসহ ‘ইন্ডিয়া’র শরিকরা। কিন্তু আদানিবিরোধী বিক্ষোভে শরিক হয়নি এসপি, তৃণমূল ও আম আদমি পার্টি (আপ)।