কাজ ঠিক হচ্ছে কী না ? জানতে BIG STEP নিলো লালবাজার, ব্যর্থ হলেই সাসপেন্ড

এক মাস আগের ঘটনা। এক ব্যক্তি হঠাৎ বড়তলা থানায় ছুটে আসেন। ডিউটি অফিসারকে তিনি বলেন, “স্যার, আমি ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ কেউ আমার মোবাইলটা ছিনিয়ে নিয়ে গেল।” মাঝবয়সী পুলিশ অফিসার মুখ না তুলেই উত্তর দেন, “কী হবে? মোবাইলটা ভালো করে রাখতে পারেননি? এখন অনেক কাজ আছে। ওখানে গিয়ে বসুন, ডেকে নেব। না হলে, কাল আসুন।” ভুক্তভোগী থানার বেঞ্চে বসে থাকেন। খাতায় মগ্ন ডিউটি অফিসার বোধহয় ভুলেই গেলেন যে কেউ তার কাছে অভিযোগ করতে এসেছেন। অনেক পরে অভিযোগ নেওয়া হলেও তা গুরুত্ব পায়নি।
আসলে, সেদিন বড়তলা থানায় অভিযোগকারী হিসেবে এসেছিলেন লালবাজারের এক গোয়েন্দা। তিনি সাধারণ মানুষের অভিযোগ করলে পুলিশ কেমন ব্যবহার করে, সেটা পরীক্ষা করতে এসেছিলেন। কিন্তু ডিউটি অফিসার ব্যর্থ হলেন।
এই ঘটনা একক নয়। থানায় গিয়ে অনেকেই দুর্ব্যবহারের শিকার হন। জিডি বা এফআইআর করতে গেলে অনেক সময় নষ্ট করতে হয়। অনেকে আর থানায় যান না, সরাসরি কলকাতা পুলিশ কমিশনার বা জয়েন্ট সিপি ক্রাইমকে মেইল করেন। সম্প্রতি এই ধরনের ঘটনা বেড়েছে।
আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পর থেকে এই সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পুলিশের যুক্তি, প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করতে সময় লাগে। কিন্তু অভিযোগকে একেবারেই উপেক্ষা করা যায় না।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য লালবাজার গোয়েন্দাদের থানায় পাঠাচ্ছে। তারা দেখছেন থানায় কীভাবে কাজ হচ্ছে। যদি কোনও অফিসার অভিযোগকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।