বিশেষ: “জম্বিদের দখলে জাপানের ট্রেন!”-যাত্রীদের হলো হারহীম করা এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা

১৯ অক্টোবর, যখন জাপানের বিখ্যাত বুলেট ট্রেন শিনকানসেন যাত্রা শুরু করল, তখন কেউ ভাবতে পারেনি তাদের সামনে অপেক্ষা করছে এক ভুতুড়ে পরিস্থিতি। ট্রেনটির চার্টার্ড কোচে বসা ৪০ জন সাহসী যাত্রী যখন ট্রেনের ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন তারা জানতেন না যে, তারা ভয়ের রাজ্যে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন।
যাত্রা শুরুর পর খুব বেশি সময় লাগল না প্রথম ভয়াবহ হামলার। যাত্রীদের মধ্যে থাকা জম্বিরা যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ভয়ঙ্কর রূপান্তরিত হলেন। এরপরই শুরু হলো হঠাৎ আক্রমণ। এক মুহূর্তেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভেঙে গিয়ে চিৎকার ও আতঙ্কে রূপ নিলো।

৩০ বছর বয়সী এক যাত্রী নাওহিকো নোজাওয়া জানান, প্রতিটি মুহূর্তে ছিলো ভয়, আতঙ্ক ও উত্তেজনার। এটি খুব ইমার্সিভ ছিল। বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি মৃতদের উপস্থিতি আমাকে পুরো সময় ধরে ঘিরে রেখেছে’।

ট্রেনে থাকা জোশুয়া পেইন নামের আরো এক যাত্রী বলেন, ‘আমি মনে করছিলাম, আমি যেন সিনেমার মধ্যে আছি। এখানে বসে তা আমার সামনে ঘটছে’।

ট্রেনের পুরো সফরে ব্যবহার করা হয়েছিল খেলনা চেইনসো এবং বন্দুক। কিন্তু শিনকানসেনের পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করতে পারে এমন জিনিস এড়ানো হয়েছিল। তবে ভয়াবহতার অনুভূতি ছিল সত্যিই তীব্র।

যাত্রীরা হাহাকার করতে করতে একটি নতুন ভুতুড়ে অভিজ্ঞতার মধ্যে প্রবেশ করলেন। কেউই দীর্ঘ সময় ধরে ভয়ের মুখোমুখি হয়ে বসে থাকতে চাননি, কিন্তু এই অভিনব আয়োজনটি সত্যিই তাদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করেছিল।

প্রায় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের এই সফরে, জম্বি মৃতদের সঙ্গে কমেডিয়ানদের অভিনয়ের এক ভিন্নমাত্রার সংমিশ্রণ ছিল। মাইকেল জ্যাকসনের থ্রিলারের সঙ্গে কোরিওগ্রাফি ড্যান্স পুরো পরিবেশকে আরো চিত্কার-কান্নার মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল।

আয়োজক জানান, কোরিয়ান ছবি ট্রেন টু বুসান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটা করা। প্রযোজক কেন্টা ইওয়ানা বললেন, ‘যাত্রীরা একটি সাধারণ ট্রেনে রয়েছেন, কিন্তু হঠাৎ একজন জম্বি হয়ে যায়, যা পুরো যাত্রাকে জম্বি অ্যাপোক্যালিপস বানিয়ে দেয়’।

জাপানের সৃষ্টিশীলতা এবং বিনোদনের নতুন আঙ্গিকের পরিচায়ক হিসেবে এটি অনেকের মনে গেঁথে থাকবে। এই যাত্রা ছিল এক ভয়ের রাজ্যে প্রবেশের গল্প। যেখানে প্রত্যেক মুহূর্ত ছিল ভয়ের সংমিশ্রণ এবং যাত্রীরা ছিলেন এক ভুতুড়ে সিনেমার চরিত্র।