বিশেষ: মাছেদের ‘সাসপেন্ডেড এনিমেশন’ কী? জেনেনিন আসলে কি এই গোটা বিষয়টি?

মাছ একটি শীতল রক্তবিশিষ্ট মেরুদণ্ডী প্রাণী যার শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ফুলকা রয়েছে। চলাচলের জন্য যুগ্ম অথবা অযুগ্ম পাখনা রয়েছে। এদের দেহে সচরাচর আঁইশ থাকে।

মাছ সাধারণত জলকেই বসবাসের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। সাধারণত এদের দেহের বহির্ভাগ আঁশ দ্বারা আচ্ছাদিত; তবে আঁশ নেই এমন মাছের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। এরা সমুদ্রের লোনা জল এবং স্বাদু জলের খাল, বিল, হাওর, বাওর, নদী, হ্রদ, পুকুর, ডোবায় বাস করে।

পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে শুরু করে মহাসাগরের গহীন অতল স্থানে, অর্থাৎ যেখানেই জল রয়েছে সেখানেই মাছের অস্তিত্ব দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র মাছ মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মাছ মানবদেহে অন্যতম আমিষ যোগানদাতা। অনেক স্থানেই মাছ চাষ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বিনোদন হিসেবে ছিপ/বড়শি দিয়ে মাছ ধরা আবার মাছকে অ্যাকুয়ারিয়ামে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে।

তবে মাছের একটি বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে ‘সাসপেন্ডেড এনিমেশন’। আর এ নিয়েই আমাদের আজকের ফিচার।

তো চলুন জেনে নিই মাছের ‘সাসপেন্ডেড এনিমেশন’ কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছে বিশ্রামের সময় মাছ তাদের বাহ্যিক কার্যক্রম ও মেটাবলিজম (বিপাক) কমিয়ে দেয়। কিছু মাছ নির্দিষ্ট যায়গায় ভেসে থাকে, কিছু আবার একসঙ্গে মাটিতে নিরাপদ যায়গায় জড় হয়। কিছু কিছু মাছ নিজস্ব বাসস্থানের মতো থাকার যায়গা নির্ধারণ করে নেয়। মাছের এই বিশ্রামকালীন সময়কে ‘সাসপেন্ডেড এনিমেশন’ বলা হয়।

জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ) বলছে, মাছ মানুষের মতো ঘুমায় না, তবে তারা তাদের কার্যকলাপ এবং বিপাক হ্রাস করে বিশ্রাম নেয়।

২০১৯ সালে, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখেছেন, জেব্রাফিশ হলো এক ধরনের মাছ যা মানুষের মতোই ঘুমায়। যদিও তাদের চোখের পাতা বন্ধ করার মতো নেই, তারা ধীর-তরঙ্গ ঘুমের মধ্যে চলে যায়।

স্ট্যানফোর্ড গবেষকরা আরো বলেছেন, এটি ভবিষ্যতে ঘুমের অস্বাভাবিকতা গবেষণায় সাহায্য করতে পারে।

কিছু মাছ আছে যেগুলো দিনে সক্রিয় থাকে এবং রাতে মানুষের মতোই বিশ্রাম নেয়। ক্যাটফিশ এবং ছুরি মাছের মতো কিছু প্রজাতির মাছ আছে, যেগুলো নিশাচর। এমনও প্রমাণ রয়েছে, মাছ তাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ঘুমায় না। বেশিরভাগ মাছ যখন তাদের বাচ্চাদের দেখভাল করে, স্থানান্তরিত হয় তখন কয়েক মাস বয়স পর্যন্ত ঘুমায় না।