“তাই আমি চাকরিটা ছেড়ে দিতে বাধ্য হই”- নাইট ডিউটি নিয়ে চিন্তায় দেশের বহু ডাক্তার ও নার্স

আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ছায়া দেশের প্রতিটি হাসপাতালে পড়েছে। একজন তরুণী চিকিৎসকের জীবন যন্ত্রণায় শেষ হওয়ার পর, দেশজুড়ে চিকিৎসকরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টও এই গুরুতর সমস্যাটির প্রতি সতর্ক হয়েছে এবং চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য স্বয়ংপ্রণোদিত মামলা করেছে। কিন্তু আইএমএ-র একটি সমীক্ষা আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, আরজি করের ঘটনার অনেক আগেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত অনেক চিকিৎসক, বিশেষ করে মহিলা চিকিৎসকরা, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করেন । রাতের ডিউটিতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র আশঙ্কা। অনেকে আত্মরক্ষার জন্য নিজেদের কাছে অস্ত্র রাখার কথা ভাবছিলেন। এই সমীক্ষা ফলাফল আরজি করের ঘটনার পরে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিরাপত্তার সঙ্কটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
আইএমএ-র প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি এবং বর্তমানে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শান্তনু সেন বলেন, ‘সারা দেশের চিকিৎসকদের প্রায় ৬৫ শতাংশ মহিলা। ব্যাঙের ছাতার মতো মেডিক্যাল কলেজ খোলার পারমিশন দেওয়ার আগে চিকিৎসক এবং ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত।’
মুম্বইয়ের যশলোক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান সুদেষ্ণা রায় বলেন, ‘২৫ বছর আগে যখন আমরা ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করেছি, তখনকার থেকে এখনকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে তাও কিছু নিরাপত্তা থাকে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের অবস্থা খুব খারাপ। মহিলাদের নিরাপত্তার নামে তাঁদের ডিউটি রেস্ট্রিক্ট করা হচ্ছে। আমি মহিলা বলে কল পেলেও রোগী দেখতে যেতে পারব না! এটা মানা যায় না।’
মুম্বইয়ের টাটা ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক দীপশিখা সিংয়ের কথায়, ‘আমাদের এখানে ডাক্তারদের আলাদা বিশ্রামকক্ষ রয়েছে। তবে ওয়ার্ডের ভিতর অনেক সময়ে বাইরে লোক ঢুকে পড়লে সমস্যা তৈরি হয়। তখন আমরা সিকিউরিটি গার্ডকে ডেকে পাঠাই। তবে সব জায়গায় হয়তো এই সুবিধাটা নেই।’
সুমেধা মজুমদার, উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়ার বাসিন্দা, একজন অভিজ্ঞ নার্স। তিনি একসময় বেঙ্গালুরুর একটি নামী হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করছেন। অন্যান্য নার্সদের মতো তিনিও রাতের ডিউটিতে নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হন।
তাঁর কথায়, ‘আমি যখম হাসপাতালে নাইট ডিউটি করতাম, তখন আমরা দু’জন মাত্র মহিলা ছিলাম। রাতে আমাকে ল্যাবে রিপোর্ট আনতে যেতে হতো। কিছু ডাক্তার অ্যাডভান্টেজ নিত। তাই আমি চাকরিটা ছেড়ে দিতে বাধ্য হই।’