‘স্রেফ রয়েছে কাগুজে অস্তিত্ব!’- এলিফ্যান্ট রিজ়ার্ভ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই! ‘ময়ূরঝর্ণা হাতি সংরক্ষণ এলাকা’ নামে একটি প্রকল্প ঘিরে উঠেছে রহস্যের জাল। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নিজস্ব দলিলেই এই প্রকল্পের অস্তিত্ব নিয়ে বিরাট অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।
২০০২ সালে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল। কিন্তু আজও পর্যন্ত এর কোনো বাস্তব রূপ নেই। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে এই সংরক্ষণ এলাকা থাকলেও, বাস্তবে এর কোনো পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। অদ্ভুত হলেও সত্য, ২০২২ সালে রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছিল যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ।
ঝাড়গ্রামে হাতির মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর ‘জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চা’ এই প্রকল্পের তদন্তের দাবি তুলেছে। তাদের মতে, এই প্রকল্পের ব্যর্থতার কারণে জঙ্গলমহলে হাতি-মানুষের সংঘর্ষ বেড়েছে।
ময়ূরঝর্ণা হাতি সংরক্ষণ এলাকা কী?
জঙ্গলমহলে হাতিদের সংরক্ষণ এবং মানুষ-হাতির সংঘর্ষ কমানোর লক্ষ্যে এই প্রকল্প শুরু করা হয়েছিল। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এই প্রকল্পের আওতায় আসার কথা। কিন্তু বাস্তবে, এই এলাকায় হাতিদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি হয়নি।
কেন এই প্রকল্প ব্যর্থ হল?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে দ্বন্দ্বের ছাপ স্পষ্ট। রাজ্য সরকার দাবি করে যে প্রকল্পটি সফল, কিন্তু বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
এ নিয়ে শৈলেশ এস আনন্দকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন ওই পোস্টে নেই। যার ফলে বিষয়টি আমি এখন বলতে পারব না।’
সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন কর্তার বক্তব্য
অবসরপ্রাপ্ত বনকর্তা সমীর মজুমদার বলেন, ‘২০১৬ সালে ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশন(সাউথ)-এর এডিএফও পদে আমাকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশন(সাউথ)-এর নতুন অফিস তৈরি হয়নি এবং আমিও নতুন দায়িত্ব পাইনি।’
জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চা’র কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাতো বলেন, ‘বন দপ্তর কেন্দ্রকে জানাচ্ছে, ময়ূরঝর্ণা এলিফ্যান্ট রিজার্ভ প্রজেক্ট রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনও অস্তিত্ব নেই। আর যদি ময়ূরঝর্ণা এলিফ্যান্ট রিজার্ভ থাকে, তা হলে জঙ্গলমহলে হাতি-মানুষের সমস্যার সমাধান কেন হচ্ছে না? ওই সংরক্ষিত এলাকায় কেন হাতি থাকছে না? কেন বিভিন্ন এলাকায় হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে?’
রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল(বন্যপ্রাণ) দেবল রায় বলেন, ‘রাজ্যের দু’টি এলিফ্যান্ট রিজ়ার্ভের মধ্যে একটি দক্ষিণবঙ্গের ময়ূরঝর্ণা এলিফ্যান্ট রিজ়ার্ভ অন্যটি ইস্টার্ন ডুয়ার্স এলিফ্যান্ট রিজ়ার্ভ। দু’টিই রাজ্যের স্বীকৃত এলিফ্যান্ট রিজ়ার্ভ। এ বিষয় নিয়ে কোনও রকম বিতর্ক নেই। বন দপ্তর সঠিক দেখভাল করছে এবং সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।’