“৪৮ হাজারের বেশি ধর্ষণ মামলা ঝুলে, চালুই হয়নি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট”- মমতার চিঠির জবাব দিল কেন্দ্র

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দেশে বাড়তে থাকা ধর্ষণের ঘটনায় কড়া আইনি পদক্ষেপ করার জন্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদী কে চিঠি লিখেছিলেন ।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছিলেন , “গোটা দেশ জুড়ে যেভাবে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটছে তা নিয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিদিন দেশে গড়ে ৯০ জন মহিলার ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এতে দেশ ও সমাজের আত্মবিশ্বাস টলে যাচ্ছে। তাই এর অবসান ঘটানো জরুরি”।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, এজন্য একটি কেন্দ্রীয় আইন প্রনয়ন করা উচিত। যাতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়। এই সব ঘটনার শুনানির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গড়ে তোলা দরকার। যাতে ১৫ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করা যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে লেখেন, ‘ট্রেন্ড থেকে শিউরে উঠছি। সমাজ তথা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিচ্ছে মহিলাদের ওপর যৌন নিগ্রহের পরিসংখ্যান। এই ধরনের ঘটনায় কঠোরতম সাজা হওয়া উচিত। এর জন্য কড়া আইন আনা জরুরি।’

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অন্নপূর্ণ দেবী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা শ্রীমতী বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির উত্তর দিয়েছি। আরজি কর হাসপাতালের নিহত চিকিৎসকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। গত মাসেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। যথাযথভাবে মহিলাদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধগুলির মামলায় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’

কেন্দ্রের চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ৪৮,৬০০টিরও বেশি ধর্ষণ ও পকসো (POCSO) মামলার বিচার ঝুলে রয়েছে। এতো সংখ্যক মামলা থাকা সত্ত্বেও, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের অনুমোদিত ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টগুলিকে কার্যকর করার জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, ‘২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে কেন্দ্রের একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ৭৫২ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট চালু হয়েছে। ৪০৯টি পকসো মামলা এই মুহূর্তে আদালতগুলিতে চলছে। সক্রিয় হওয়ার পর থেকে এই আদালতগুলিতে ৩০টি রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে ১২৩টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। এর মধ্যে ২০টি কেবলমাত্র পকসো মামলার জন্য নির্দিষ্ট। একই সঙ্গে ১০৩টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে ধর্ষণ এবং পকসো মামলার শুনানি হয়। যদিও ২০২৩ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে কোনও ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টই সক্রিয় নয়।’

কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রীর অভিযোগ, ‘তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কেন্দ্রের নির্ধারিত হেল্পলাইন নম্বর চালু করেনি। বিপদের মুখে পড়া মহিলাদের জন্য ১৮১, এমারজেন্সির জন্য ১১২, শিশুদের সাহায্যের জন্য ১০৯৮ এবং সাইবার ক্রাইমের জন্য ১৯৩০ নম্বরগুলি কেন্দ্র চালু করেছিল। তবে বাংলার মানুষ এই নম্বরগুলি ব্যবহার করতে পারেন না। একাধিকবার মনে করানো সত্ত্বেও রাজ্য সরকার তা চালু করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আশা করি সমস্ত রকমের পক্ষপাতিত্ব দূরে সরিয়ে রেখে বাংলার সরকার মহিলাদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধে দ্রুত পদক্ষেপ করবে এবং সর্বোপরি লিঙ্গ নির্বিশেষে সুস্থ এবং সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করবে।