“সরকার জনগণের চাপে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে”- UPS নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ খাড়গের

কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি একটি নতুন পেনশন স্কিম, ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম (ইউপিএস) চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে এই সিদ্ধান্তকে মোদী সরকারের ‘পাল্টি খাওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সরকার জনগণের চাপে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
এক্স প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘4 জুনের পরে মানুষের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার অহংকারকে দমিয়ে রেখেছে। বাজেটে প্রস্তাবিত লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স/ইনডেক্সেশন রোলব্যাক করা, ওয়াকফ বিল যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো, ব্রডকাস্ট বিল ফিরিয়ে নেওয়া, সরকারি চাকরিতে ল্যাটেরাল এন্ট্রি-র সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠেছে সরকার। 140 কোটি ভারতীয়কে এই স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে রক্ষা করা এবং সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহি চাওয়া আমরা সুনিশ্চিত করব।’
বিজেপির দাবি:
বিজেপি মুখপাত্র তুহিন সিনহা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউপিএস চালু করার জন্য সরকার দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে এবং এটি কোনও রাজনৈতিক চাপে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়।
ইউপিএস ও ওপিএস-এর মধ্যে পার্থক্য:
পেনশনের হিসাব: ওপিএস-এ কর্মজীবনের শেষ মাসের বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ পেনশন হিসেবে দেওয়া হয়, যখন ইউপিএস-এ অবসরের আগের বেশ কয়েক মাসের গড় বেতনের উপর ভিত্তি করে পেনশন নির্ধারিত হয়।
কর্মীর অবদান: ইউপিএস-এ কর্মীদের পেনশন ফান্ডে নিজের অর্থ জমা দিতে হয়, যা ওপিএস-এ নেই।
অবসরকালীন এককালীন সুবিধা: ইউপিএস-এ অবসর গ্রহণের সময় কর্মীরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ এককালীন সুবিধা পাবেন, যা ওপিএস-এর ক্ষেত্রে পেনশন কমিয়ে নিয়েই পাওয়া যায়।
কেন ইউপিএস?
এনপিএস-এ কম রিটার্ন এবং ওপিএস প্রত্যাহারের ফলে সরকারি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকার ইউপিএস চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি:
কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে যে, ইউপিএস-এর মাধ্যমে 23 লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী উপকৃত হবেন এবং রাজ্য সরকারগুলি যোগ দিলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।