“আমিও বিচার চাই, আমার বাবাকে তো বাঁচাতে হবে”-রোগীর আত্মীয়দের আর্তি শুনছেই না ডাক্তাররা

আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ঘটনাবহুল রাতের পর থেকে কলকাতার চিকিৎসা ব্যবস্থা তোলপাড় হয়ে উঠেছে। একজন যুবতীর ভয়াবহ অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ উঠলে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
নীলরতন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মৃত্যুশয্যায় পড়া রোগীদের পাশে আত্মীয়স্বজনরা হাহাকার করছেন। উলুবেড়িয়ার দিবাকর দাসের বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত। দিনের পর দিন হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসা পাননি। তিনি হতাশ হয়ে বলেন, “আমিও বিচার চাই, কিন্তু আমার বাবাকে তো বাঁচাতে হবে।”
বনগাঁর পরিমল সামন্তের ৯ বছরের মেয়েও একই দুর্দশায়। এসএসকেএম ও এম আর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় তাকে নিয়ে নীলরতনে আসেন। কিন্তু সেখানেও চিকিৎসকের অভাবে যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছে না।
কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে রোগীদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়। ক্যানসার, হৃদরোগের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আরজিকর হাসপাতালে সিবিআই তদন্ত শুরু হলেও, চিকিৎসকরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নীলরতন হাসপাতালের চিকিৎসক রবি শঙ্কর বলেন, “আমরা নিরাপত্তা চাই। যতক্ষণ না অভিযুক্তরা ধরা পড়ে, ততক্ষণ আমরা কাজে ফিরব না।”
এই ঘটনা কেবল একটি হাসপাতালের ঘটনা নয়, এটি পুরো রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রমাণ। একদিকে রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসকরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই সংকট থেকে বের হতে সরকার ও চিকিৎসকদের মধ্যে একটা সমঝোতা জরুরি।
তথ্যসূত্র:আজতক