ক্রেডিট কার্ড করাতে গিয়ে প্রতারিত বিচারক! জানার পরেও ব্যাঙ্ক চুপ? জরিমানা আদালতের

একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, বীরভূমের এক বিচারককে জামতাড়া গ্যাং প্রতারণার জালে ফসিয়ে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত ব্যাঙ্ক কর্মীদের বিরুদ্ধে ক্রেতাসুরক্ষা আদালত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল?
বিচারককে ব্যাঙ্কের এক কর্মী ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কার্ডের জন্য ভেরিফিকেশনের নাম করে জামতাড়া গ্যাংয়ের সদস্যরা বিচারককে ফোন করে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চায়।বিচারকের সকল তথ্য জানার পরেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১.২৫ লক্ষ টাকা চুরি হয়ে যায়।ব্যাঙ্ক কর্মীরা এই ঘটনায় কোনও ব্যবস্থা না নিলে বিচারককে ক্রেতাসুরক্ষা আদালতে মামলা করতে হয়।
আদালতের রায়
আদালত এই মামলায় ব্যাঙ্কের একাধিক কর্মী এবং ব্যাঙ্কের দুটি শাখাকে চার লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। পাশাপাশি, বিচারককে হারানো ১.২৫ লক্ষ টাকাও ব্যাঙ্ককে ফেরত দিতে হবে।
তদন্তে দেখা যায়, ওই ঘটনায় জামতাড়া গ্যাং জড়িত। অমিতের টাকা কোন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছে, তা জানার পরেও কোনও পদক্ষেপ করেনি ব্যাঙ্ক। ক্রেতাসুরক্ষা আদালতে হলফনামায় রোহন জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে বিচারক অমিত চক্রবর্তীর কোনও কথা হয়নি। ফলে, তিনি দায়ী নন। ব্যাঙ্কও তা-ই দাবি করেছিল।
রায় দিতে গিয়ে ক্রেতাসুরক্ষা আদালত জানায়, সাইবার ক্রাইম পুলিশের দেওয়া রিপোর্টে প্রমাণিত, রোহনের সঙ্গে অমিতের একাধিকবার কথা হয়েছিল। ব্যাঙ্ক দাবি করেছিল, অমিত পুরো টাকাই ফেরত পেয়েছেন, তিনি তা চেপে গিয়েছেন।
তদন্তে দেখা গিয়েছে, পুলিশ টাকা উদ্ধার করলেও তা ফৌজদারি আদালতের হেফাজতে রয়েছে।
মামলার নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত সেই টাকার কোনও গতি হবে না। আদালতের প্রশ্ন, ক্রেডিট কার্ডের জন্য ক্রেতা আবেদন করেছেন— সেই তথ্য জামতাড়া গ্যাংয়ের কাছে গেল কী ভাবে? কোন অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়েছে, সেটা জানার পরেও ব্যাঙ্ক কেন টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করল না?
কেন এত বড় জরিমানা?
ব্যাঙ্ক গ্রাহকের বিশ্বাস ভেঙেছে। ব্যাঙ্ক কর্মীরা প্রতারণায় সহযোগিতা করেছে। ব্যাঙ্কের সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
সতর্ক থাকুন: কখনও অচেনা ব্যক্তিকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিন না।
ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন: কোনো সমস্যা হলে সরাসরি ব্যাঙ্কের শাখায় যোগাযোগ করুন।
অভিযোগ করুন: যদি আপনার সঙ্গে প্রতারণা হয়, তাহলে তাড়াতাড়ি পুলিশে অভিযোগ করুন।
এই ঘটনাটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ব্যাঙ্কের দায়িত্ব।
আপনিও যদি কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হন, তাহলে দ্বিধা করবেন না, আইনি ব্যবস্থা নিন।