হাসপাতালে নজরদারিতে AI, হাতেনাতে ধরা পড়বে সন্দেহভাজন, চিঠি পাঠানো হলো স্বাস্থ ভবনে

আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর থেকে রাজ্যের সকল হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।স্বাস্থ্যভবনকে সেই বিষয়ে চিঠি দিয়ে অনুমতি চাওয়ার কথাও ভাবছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় অনুমতি পেলেই হাসপাতালের নিরাপত্তায় ব্যবহার হবে এআই প্রযুক্তি।

কীভাবে কাজ করবে AI?

এই নতুন ব্যবস্থায়, হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত ক্যামেরার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সহজেই শনাক্ত করা যাবে। পাশাপাশি, রোগীদের নিরাপত্তার জন্যও এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। যদি কোন রোগী বিপদের মধ্যে পড়েন, তাহলে AI তা খুব তাড়াতাড়ি চিহ্নিত করতে পারবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ

জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সুপার কল্যাণ খাঁ জানিয়েছেন, একটি সরকারি সংস্থা হাসপাতালকে এই AI প্রযুক্তি দিয়ে সুরক্ষার কাজে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে অনুমতি চাইব যাতে এই প্রযুক্তি হাসপাতালে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।”

অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এই AI প্রযুক্তির পাশাপাশি, হাসপাতালে আরও কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন,

রোগীদের দেখার জন্য একটি কার্ডে একজনকেই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।হাসপাতালের দরজা সবসময় বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
নাইট ডিউটির ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট জোনকে লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা হয়েছে।

এই উদ্যোগের গুরুত্ব

আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই ব্যবস্থার ফলে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে এবং রোগীরাও নিরাপদ অনুভব করবে।

আরজি কর ঘটনার পর থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই দিকে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, এই উদ্যোগ সফল হবে এবং রাজ্যের অন্যান্য হাসপাতালেও এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।