“পরিবার অপেক্ষা করুক চাইনি”-নির্যাতিতার দেহ ‘পোড়ানো’ র বিষয়ে মুখ খুললো শ্মশান ম্যানেজার

“এত কম বয়সে এমন ঘটনা ঘটেছিল যে মনটা কেঁপে উঠেছিল। তাই সেদিন অন্যদের অনুরোধ করেছিলাম যাতে ওঁর পরিবারকে আগে দাহকাজ সম্পন্ন করার সুযোগ করে দেওয়া হয়।”
আরজি কর কাণ্ডের পর পানিহাটি শ্মশানের ম্যানেজার ভোলানাথ পাত্র এই কথাটি বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যম থেকে আরজি করের ঘটনা সম্পর্কে তিনি আগেই জানতে পেরেছিলেন। তরুণীর দেহ শ্মশানে আনার আগে গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল।
আরজি করের ঘটনার পর একাধিক তত্ত্ব সামনে এসেছিল, যার মধ্যে একটি দাবি ছিল যে তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করা হয়েছিল। তবে শ্মশান ম্যানেজার এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি নিজে অনুরোধ করেছিলেন যাতে নিহতের পরিবারকে শেষবারের জন্য তাদের প্রিয়জনকে বিদায় জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘ওই দিন খবরটা জানার পর মন কেঁপে উঠেছিল। তরুণীর দেহ সৎকারের জন্য এখানে আনা হয়। তবে তার আগে দুই জনের দেহ ছিল। আমরা চেয়েছিলাম ওই তরুণীর পরিবারকে যেন অপেক্ষা করতে না হয়। সেই জন্য আগে রেজিস্ট্রার করা দুই পরিবারকে অনুরোধ করেছিলাম। তাঁরাও রাজি হয়ে যান।’
ভোলানাথ আরও বলেন, ‘সেই সময় আমি ওঁর মাকে দেখেছিলাম। কেন দু’জনের আগে মেয়েকে দাহ করা হয় তখন এই নিয়ে কোনও প্রশ্ন তিনি করেননি। আমরা চেয়েছিলাম ওঁর পরিবারকে আগে ছেড়ে দিতে। মানসিকভাবে তাঁদের সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। সেই সময় শ্মশানের বাইরেও অনেক ভিড় হয়েছিল। যদিও তা পুলিশ সামাল দেয়।’
ভোলানাথ আরও বলেন, ‘আমিও আরজি করের ঘটনায় ন্যায় বিচার চাইছি। প্রত্যেক মানুষ চাইছেন এই ঘটনার দ্রুত বিচার হোক। দোষীরা শাস্তি পাক।’