নির্ভয়াকাণ্ডের ছায়া! ফাঁকা বাসে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে নামলো পুলিশ

কলকাতায় এক চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে যখন বিক্ষোভে উত্তাল গোটা ভারত, তখন দেশটিতে আবারও সামনে এলো বাসের মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের বীভৎস ঘটনা। সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে একটি পাবলিক বাসের মধ্যে এক নাবালিকাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার রাতে ওই নাবালিকা মোরাদাবাদ থেকে দেরাদুনের আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনালে পৌঁছায়। সেখানেই দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি। সে পাঞ্জাবের বাসিন্দা।

এ ঘটনার চারদিন পর গত শনিবার (১৭ আগস্ট) একটি মামলা নথিবদ্ধ করেছে পুলিশ। তদন্তও শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সন্দেহভাজন একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৩ অগস্ট ওই নাবালিকাকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পায় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হেল্পলাইন টিম। সেসময় অঝোরে কাঁদছিল, মানসিক অবস্থাও ঠিক ছিল না। জামা কাপড়ও ছিল ছেঁড়া। ওই দিন তাকে উদ্ধার করে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হেল্পলাইন টিম। সূত্রের খবর, প্রথমে ১৬ বছরের ওই নাবালিকা মুখ খুলতে চাইছিল না। কাউন্সিলিংয়ের সময় সে জানায়, বাসের মধ্যে তাকে গণধর্ষণ করেছে কয়েকজন। দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তদন্ত শুরু হয়। উত্তরাখণ্ড রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন কুসুম কান্ডওয়াল রবিবার সকালে নির্যাতিতা নাবালিকার খোঁজ নিতে বালিকা নিকেতনে যান।

এর আগে, গত সপ্তাহে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজে দায়িত্বরত অবস্থায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন চিকিৎসক।

জানা যায়, গত ৮ আগস্ট রাতে টানা ৩৬ ঘণ্টার ‘অন-কল’ ডিউটিতে ছিলেন ওই তরুণী। রাতে খাবার খেয়ে চারতলার পালমোনোলজি বিভাগের সেমিনার হলে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নিতে যান তিনি। পরদিন সকালে জুনিয়র সহকর্মীরা ওই হলের ভেতরেই তার অর্ধনগ্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারত। ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার এবং সব শ্রেণির নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।