“গ্রামে শৌচালয় নেই, মা-বোন পুকুরে স্নান করেন, ছেলেরা তাকিয়ে থাকে”-বাংলার ছেলে কে কী বললেন অমিতাভ

কেবিসি মঞ্চে আবেগের জোয়ারে ভাসলেন বাংলার জয়ন্ত! আগাই গ্রামের এই তরুণ টিউটরের স্বপ্ন পূরণের আশায় উজ্জ্বল হয়ে উঠল। নিজের গ্রামে পরিবারের জন্য শৌচালয় বানানোর স্বপ্ন দেখতেন জয়ন্ত। কেবিসি-র মঞ্চ থেকেই অমিতাভ বচ্চনের মুখে সেই স্বপ্ন পূরণের আশ্বাস পেলেন তিনি।
কেবিসি-র মঞ্চে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হল বাংলা। পশ্চিমবঙ্গের আগাই গ্রামের ছেলে জয়ন্ত দুলে, একজন সাধারণ ছাত্র ও পার্ট টাইম টিউটর, কেবিসি ১৬-এর মঞ্চে তার বোন শিখার সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন। ফিঙ্গার ফার্স্ট রাউন্ড জিতে আবেগে আপ্লুত হয়ে জয়ন্ত তার স্বপ্নের কথা শেয়ার করেছেন। তিনি তার মা ও বোনের জন্য একটি শৌচালয় বানাতে চান। এই আবেগঘন মুহূর্তে কেবিসি-র মঞ্চ থেকেই অমিতাভ বচ্চন জয়ন্তের বাড়িতে শৌচালয় বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মাত্র ৪-৫ হাজার টাকা আয় করে জীবনযাপন করা জয়ন্তের জন্য এই ঘটনা এক স্বপ্নের মতো।
জয়ন্ত অমিতাভের সামনে বলেন, ‘আমার বাড়িতে কোনও শৌচালয় বা বাথরুম নেই। শুধু আমাদের বাড়িতেই নয়, আমাদের গ্রামের কারোর বাড়িতেই নেই। পশু থেকে শুরু করে পুরুষ ও মহিলা, সকলেই পুকুরে নেমে স্নান করেন। যে সমস্ত লোকের কাছে টাকা আছে, তাঁরাও টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা বোঝেন না। আমার মা পুকুরে স্নান করেন। ওঁর এটাই অভ্যাস হয়ে গেছে। তবে আমার ছোট বোন যখন পুকুরে স্নান করতে যায়, আমার খুব লজ্জা করে। আমি ওর দাদা হয়েও কিছু করতে পারছি না।’
জয়ন্ত বলেন, ‘আমি যখন কাজ থেকে বাড়ি ফিরি, দেখি মা ও বোন পুকুরে স্নান করছে, ছেলেরা তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকে, যেটা আমার দেখতে ভালো লাগে না। ছেলেরা মহিলাদের দিকে যেভাবে তাকায়, সেটা অসম্মানজনক।’
অমিতাভ বলেন, ‘আপনার কথা শুনে খুব খারাপ লাগছে, আবার কিছুটা অবাকও হচ্ছি। আমাদের এই ভারতবর্ষে কিছু জায়গা এমনও আছে, যেখানে সাধারণ সুবিধাগুলো এখনও নেই। ’
বিগ বি জয়ন্তকে প্রশ্ন করেন, ‘একটা টয়লেট তৈরি করতে কত টাকা লাগবে?’ উত্তরে জয়ন্ত জানান, ‘৪০-৫০ হাজার।’ আর তখনই বিগ বি বলেন, ‘এখান থেকে তুমি কত টাকা জিতবে জানি না। তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিলাম, তোমার বাড়িতে আমি শৌচালয় বানিয়ে দেব।’