“দেখলাম, মেয়ের পা ৯০ ডিগ্রি চিরে ফেলা হয়েছে”-জানালেন মৃত চিকিৎসকের প্রতিবেশী

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে রাজ্য তোলপাড়। মৃত তরুণীর দেহে পাওয়া ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট, তাঁকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে আত্মহত্যার কথা বললেও, পরবর্তী তদন্তে এই অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। এই ন্যায়বিচারহীন ঘটনায় রাজ্যবাসী ক্ষুব্ধ।
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে রাজ্য তোলপাড়। মৃতার শরীরে পাওয়া নারকীয় আঘাতের চিহ্ন থেকে স্পষ্ট, তাঁকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
চিকিৎসকের প্রতিবেশি বাবা-মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলেন, তিনি বলেন, “ওর চিৎকার শুনতে পাই। যখন আমি সেখানে গেলাম, তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন যে সবকিছু শেষ। তিনি আমাকে বলেন যে তাঁর মেয়ে হাসপাতালের কথামতো আত্মহত্যা করে মারা গেছে।”
বলেন, “তিন ঘণ্টা পর যখন তাঁর বাবাকে ভিতরে যেতে এবং দেহ দেখতে দেওয়া হয় তখন তাঁকে শুধুমাত্র একটি ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বাইরে এসে আমাদের দেখিয়েছিলেন। তাঁর শরীরে কোনও কাপড় ছিল না। তাঁর পা ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছিল। এটি ঘটতে পারে না যদি না পেলভিকের অংশ ভেঙে যায়, যার মানে চিরে দেওয়া হয়েছে। তাঁর চশমা ভেঙে গিয়েছিল, চশমার টুকরো ছিল। শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। আমি এটি নিজে বলছি না। পোস্টমর্টেমেও এটি প্রমাণিত হয়েছে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে আত্মহত্যার কথা বললেও, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ধর্ষণ ও হত্যার প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এবং শরীরে বহু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গোপনাঙ্গে পাওয়া গভীর ক্ষতগুলি একটি নিন্দনীয় অপরাধের প্রমাণ। পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। এই নৃশংস ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট তদন্তভার সিবিআইকে হস্তান্তর করেছে।