“১৪ বছরের রাগ…এই এলাকা ধ্বংস করবেই”- বাড়িতে আগুন নিয়ে মুখ খুললেন রাহুল আনন্দের স্ত্রী

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পরই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
ওই সড়কের পাশেই একটি বাড়িতে থাকতেন জলের গানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও লিড ভোকালিস্ট সংগীত শিল্পী রাহুল আনন্দ। সেসময় তার বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
দুর্বৃত্তদের দেওয়া সেই আগুনে পুড়ে যায় রাহুল আনন্দের নিজের হাতে বানানো তিন শতাধিক বাদ্যযন্ত্র। লুটপাট করা হয় এই সংগীতশিল্পীর বাড়ির মালামালও।
হামলা ও লুটপাটের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাহুল আনন্দ বলেন, ‘কিছু লোকজন এসে আমাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলল, তাদের বললাম, আমি তো তোমাদের জন্যই গান করি। এই আন্দোলনেরও সমর্থক ছিলাম। তবুও আমার বাড়িতে কেন হামলা করছ? তারা বলল, ‘আপনারা বের হয়ে যান, না হলে বিপদ হবে’। পরে আমরা বেরিয়ে চলে আসি।
রাহুল বলেন, এরপরই বাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয় এবং ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। ঘর থেকে লেপ-তোষকও নিয়ে যেতে দেখা যায়। এসিও খুলে নিয়ে যায় লুটপাটকারীরা।
এবার এই নিয়ে মুখ খুলেছেন রাহুলের স্ত্রী ঊর্মিলা শুক্লা। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন “বাইরে জনতার বিজয় মিছিলের চিৎকার। হঠাৎ দেখলাম পিছনের সবগুলো বাড়িতে আগুন। আমরা মুহূর্তেই দিশেহারা হয়ে পড়লাম। বুঝলাম ৩২ এর সবগুলো বাড়িতেই আগুন লাগানো হয়েছে। আমাদের বাড়িটা সান্তুর রেষ্টুরেন্টের পিছনে। পাশে আমাদের বাড়িওয়ালা জনাব আইনুল হক-এর তিনতলা বাড়ি,সেখানে প্রথম ভাঙচুর হয় ও আগুন দেয়। যখন সান্তুরের গেইট দিয়ে উল্লাসে জনতা ঢুকে পড়েছে আর সান্তুরে আগুন ধরাচ্ছে তখন আমরা বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। আমার যে ঘরভর্তি বাদ্যযন্ত্র। তাদেরকে বুঝানোর জন্য এগিয়ে গেলাম পরিবারের সবাই। তারা তখন ৩২ ধ্বংসের উল্লাসে কোনো কিছুই শোনার চেষ্টা করেনি। তবে কিছু মানুষ এগিয়ে এসেছিলো….তারা চেয়েছিলো অন্যদের বুঝাতে…কেউ কারো কথা শোনার মতো অবস্থায় ছিলো না।একজন বললো – ১৪ বছরের রাগ…এই এলাকা ধ্বংস করবেই।..বরং আপনাদের কে আমরা সাবধানে বের করে দিচ্ছি… আপনারা এখান থেকে চলে যান। ৩২ ধ্বংস করার উন্মাদনায় আমার ঘর পুড়ে গিয়েছে। শুধু আমার নয় আমাদের বাড়ির মালিকের ঘরও পুড়েছে। আশপাশের আরো কিছু বাড়ি ঘরও পুড়েছে। আর কারো কোন ক্ষতি না হোক।
আমি অনেকবার কিছু লিখতে চেয়েছি…. কিন্তু কান্নায় আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে….আমি কোনো কিছু বলার মতো অবস্থায় নাই… তারা কেউ নির্দিষ্ট করে আমাদের বাড়ি পুড়াতে চায়নি…চেয়েছে ৩২ এর এই বাড়িগুলো ধ্বংস করতে। আমাদের তো সব গেছে, মানসিক ভাবে আমরা বিধ্বস্ত… আমাদের বাস্তবতা আশাকরি সবাই বুঝবেন।
বাংলাদেশ সুন্দর হোক।সুন্দর হোক আগামীর পথচলা।
আমরা সবাই মিলেই বাংলাদেশ।