‘মাধবী বুচ তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত?’ ফের তোপ দাগলো হিন্ডেনবার্গ

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ সেবি প্রধান মাধবী পুরী বুচের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নতুন করে তোপ দেগেছে। এই মার্কিন বেসরকারি সংস্থা দাবি করেছে যে, বুচ এবং তাঁর স্বামী সিঙ্গাপুরের একটি সংস্থায় বিনিয়োগ করেছিলেন, যা আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। যখন সেবি আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তদন্ত করছিল, তখন বুচের এই বিনিয়োগ স্বার্থের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

হিন্ডেনবার্গের এই অভিযোগের জবাবে, বুচ এবং তাঁর স্বামী যৌথভাবে জানিয়েছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং তাদের চরিত্র হনন করা হচ্ছে। তবে, হিন্ডেনবার্গ এই দাবি খারিজ করে বলেছে যে, বুচের প্রতিক্রিয়া থেকেই তাঁর অফশোর বিনিয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কর্পোরেট দুর্নীতি এবং শেয়ারে কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল এই মার্কিন সংস্থা।

হুইসেলব্লোয়ার এই সংস্থাটি এক্স হ্যান্ডলে নতুন একটি পোস্টে লেখে, ‘সেবি চেয়ারপার্সন মাধবী বুচের প্রতিক্রিয়ায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি রয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর বিবৃতি নানা প্রশ্নও তুলে দিয়েছে।’ হিন্ডেনবার্গের সংযোজন, ‘আমাদের রিপোর্ট নিয়ে মাধবী বুচের প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করেছে তিনি বারমুডা, মরিশাসের অফসোর সংস্থায় বিনিয়োগ করেছিলেন। তিনি এও স্বীকার করেছেন স্বামীর ছেলেবেলার বন্ধুর সংস্থা ছিল সেটি। যিনি তৎকালীন সময় আদানির একটি সংস্থার ডিরেক্টর পদে ছিলেন। আদানি ইস্যুতে তদন্তের দায়ভার ছিল সেবির উপর। সেই তদন্তের আওতায় পড়ছে শ্রীমতী বুচের বিনিয়োর করা সংস্থাও। ফলে এটি স্বার্থের সংঘাত তা বলাই বাহুল্য।’

হিন্ডেনবার্গ সংস্থার প্রশ্ন, ‘মাধবী বুচ নিজের প্রতিক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেক্ষেত্র কি তিনি নিজের সমস্ত বিদেশি অফশোর এবং দেশি সংস্থায় বিনিয়োগের হিসেবনিকেশ প্রকাশ্যে আনবেন? তিনি ও তাঁর স্বামী কোন কোন সংস্থার অংশিদার ছিলেন, তা জানাবেন? সর্বোপরি সেবি চেয়ারপার্সন কি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ তদন্তে রাজি হবেন?’

অন্যদিকে, সেবি জানিয়েছে যে, আদানি-হিন্ডেনবার্গ মামলায় তদন্তের বেশিরভাগ অংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং হিন্ডেনবার্গ শুধুমাত্র শর্ট সেলিংয়ের মাধ্যমে লাভ করার জন্য এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।