বিশেষ: ভয়ঙ্কর গ্যাসে মারা যায় বহু মানুষ, কিন্তু দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় কুকুরগুলো! কীভাবে?

সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরেনোবিলের জন্য এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন বয়ে এনেছিল ১৯৮৬- এর এপ্রিল মাসটা। আচমকা ঘুম থেকে উঠে সেখানকার বাসিন্দারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই শহরকে গ্রাস করেছিল তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের প্রভাব।
মানুষ ছাড়াও এই এলাকার অন্যান্য পশুপাখিও বাঁচতে পারেনি এই বিকিরণের প্রভাব থেকে। তবে সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এল সম্পূর্ণ নতুন এক তথ্য। জানা গেল, কয়েকটি বিশেষ প্রজাতির কুকুর বেঁচে গিয়েছিল প্রাণঘাতী এই তেজষ্ক্রিয় সংক্রমণ থেকে।
ঐ গবেষণায় দেখা গেছে যে বর্তমানে ৩০২টি কুকুর চেরেনোবিলের পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ঐ অঞ্চলের ১৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। এই কুকুরগুলো চেরেনোবিলের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া কুকুরগুলোরই বংশধর। মোট তিনটি প্রজাতির কুকুর বেঁচে গিয়েছিল ১৯৮৬- এর তেজষ্ক্রিয় দুর্ঘটনা থেকে।
স্বাভাবিক ভাবেই এই তথ্য সাড়া জাগিয়েছে বিজ্ঞানী মহলে। তাদের মতে, এই তথ্য চেরেনোবিলের তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের ফলে ঐ অঞ্চলের অন্যান্য পশুপাখিদের মধ্যে কতদূর প্রভাব ফেলেছে সে বিষয়েও নতুন দিশা দেখাবে। প্রসঙ্গত, এই কুকুরগুলো সেই অঞ্চলের বাসিন্দাদের পোষ্য ছিল। যখন এই দুর্ঘটনা ঘটে, শহর ছেড়ে চলে যাওয়া বাসিন্দারা তাদের পোষ্যদের ফেলেই চলে যান নিরাপদ স্থানে।
জানা গিয়েছে, এই কুকুরগুলো চেরেনোবিলের অদূরে প্রিপ্যাট নামের এক জায়গার বাসিন্দাদের পোষ্যদের বংশধর। তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের সময়ে সেখানে কমপক্ষে ৫০ হাজার লোক বসবাস করতেন। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন যে এই বিকিরণের পরেও সম্ভবত, এই কুকুরগুলো বেঁচেই ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে যখন তেজষ্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেই অঞ্চলের সমস্ত পশুপাখি মেরে ফেলা হবে, তখন কোনোভাবে পালিয়ে যায় এই কুকুরগুলো। ক্যাম্প পরিষ্কার করতে আসা কর্মীরা তাদের খেতে দিতেন।
বেঁচে থাকা এই কুকুরগুলোর জিন পরীক্ষা করে দেখা গেছে তাদের জিনের গঠন দুর্ঘটনায় মৃত কুকুরগুলোর চেয়ে আলাদা। স্বাভাবিকভাবেই এই কুকুরগুলোর বেঁচে থাকার তথ্য চেরেনোবিলের তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে থাকা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জিনের গঠন সংক্রান্ত গবেষণাতেও নতুন রাস্তা খুলে দেবে, এমনটাই মত বিজ্ঞানীদের।
সূত্র: দ্য ওয়াল