“সিপিএমের হামলায় প্রাণ যেতে বসেছিল, শুধু সাক্ষী রেখেছিলাম বুদ্ধবাবুকে”-মানস ভূইঁয়া

“২০০৯ সালে মঙ্গলকোটে সিপিএমের হামলায় আমরা প্রায় মৃত্যুমুখী হয়েছিলাম। সেই ঘটনা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে জানিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ‘বুদ্ধবাবু, আমরা ১৬ জন বিধায়ক প্রাণ বাঁচিয়েছি। আপনাকে এই ঘটনার সাক্ষী রাখছি।’ তিনি বলেছিলেন, ‘এটা খুব গুরুতর ঘটনা। আমি দেখছি।’ পরের দিন বিধানসভায়ও এই বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম। স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে জানালেন মানস ভূইয়াঁ।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজনীতিতে একজন জটিল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। দীর্ঘদিন বিধানসভায় তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করেছি। কিন্তু অধিবেশন শেষে তিনিই আমাকে কফি খেতে ডাকতেন। আমি তাঁকে বলতাম, ‘এই তো ঝগড়া শেষ করলাম, এখন একসঙ্গে কফি খাব!’ তিনি হাসতেন।
১৯৯৬ সালে সবংয়ে ব্যালট বক্স ভেঙে আমাকে হারানো হয়েছিল। সেই ঘটনা তাঁকে বললে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এই গেমে নেই।’
বাইরে থেকে তিনি রুক্ষ মনে হলেও, অন্তরে তিনি এত রুক্ষ ছিলেন না। শিল্পসাহিত্যে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে বিধানসভায় তাঁকে বলেছিলাম, ‘কমিউনিস্ট পার্টির ভারতীয়করণ না হলে আপনাদের দিন শেষ।’ পরে বামেরা বেলেঘাটার গান্ধী ভবন পর্যন্ত মিছিল করেছে।
আমরা তাঁর তীব্র সমালোচনা করলে তিনি মজা করে বলতেন, ‘প্রণবদাকে আমরা কিন্তু নিয়ে নিয়েছি!’ আমিও বলতাম, ‘প্রণবদাকে যখন নিয়েই নিয়েছেন তখন আর কী করব!’
‘ভরা থাক স্মৃতিসুধায়’, আজ শেষযাত্রা, দেহদান এনআরএসে।”