বিশেষ: পূর্বপুরুষের ভিটে-মাটি বাংলাদেশে, প্রেসিডেন্সি থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যাত্রা সম্পর্কে?

কলকাতার পাম অ্যাভিনিউয়ে জন্মগ্রহণকারী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বাংলার রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ৩৪ বছর ধরে বামফ্রন্ট সরকারের শাসনকালে ১১ বছর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এক গভীর মূল
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পরিবার বাঙালি সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে গভীরভাবে মূলবদ্ধ ছিল। তাঁর কাকা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের একজন প্রতিভাবান কবি ছিলেন। বুদ্ধদেবও তাঁর পরিবারের এই বৌদ্ধিক ঐতিহ্যকে ধারণ করেছিলেন। উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দাদু কৃষ্ণচন্দ্র স্মৃতিতীর্থের বাড়ি ছিল বাংলাদেশের মাদারিপুরে। দাদু কৃষ্ণমোহন সমাজে ব্রাহ্মণদের প্রভাব ধরে রাখতে সংকলন করেছিলেন,’পুরোহিত দর্পণ’।

শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবন
প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সিপিআই(এম)-এ যোগ দেন। তিনি যুব সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিধায়ক এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজ্যে শিল্পায়নের দিকে জোর দিয়েছিলেন। তবে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা এবং মাওবাদী সমস্যা তাঁর শাসনামলে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

শেষ জীবন
শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসলেও, বাংলার বামফ্রন্টের নেতৃত্বে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।